1. [email protected] : Faisal Ahmed : Faisal Ahmed
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
সিজার ছাড়াই ৬৪০ প্রসূতির সন্তান প্রসব, রেকর্ড গড়লেন সালেহা
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ন

  • আপডেটের সময় : সেপ্টেম্বর, ২৪, ২০২১, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
সিজার ছাড়াই ৬৪০ প্রসূতির সন্তান প্রসব, রেকর্ড গড়লেন সালেহা
পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক সালেহা খাতুনের কাছ থেকে সেবা নিচ্ছেন প্রসূতি

সিজার ছাড়াই ৬৪০ প্রসূতির সন্তান প্রসব, রেকর্ড গড়লেন সালেহা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি বরাবরের মতো এবারো রেকর্ড সৃষ্টি করে উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে। এ কেন্দ্রেটিতে প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্য সেবা করে আসছেন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক সালেহা খাতুন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিকে প্রসূতি মায়েদের কাছে নিরাপদ সন্তান প্রসবের এক আপন ঠিকানায় পরিণত করে তুলেছেন। সন্তান প্রসবে এরই মধ্যে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিনা খরচে সন্তান প্রসব শেষে হাসি মুখে বাড়ি ফিরছেন আগত মায়েরা।

পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক সালেহা খাতুন বলেন, গত ২০২০-২১ সালে ৩২৫ জন প্রসূতি মায়ের কোনো প্রকার সিজার ছাড়াই সন্তান প্রসব করিয়েছেন। গত ২০১৯-২০ সালে করিয়েছেন ৩১৫ জনকে। যা এ উপজেলার মধ্যে তিনি রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এ পযর্ন্ত তিনি প্রায় ২ হাজার প্রসূতি মায়ের সন্তান প্রসব করিয়েছেন। উপজেলা ভিত্তিক এ পযর্ন্ত তিনি ৯ বার পুরস্কার পান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজমপুর এলাকায় ১৯৯০ সালে স্বাস্থ্য ও পরবিারকল্যাণ কেন্দ্রটি গড়ে উঠে। ২০০৬ সালে সালেহা খাতুন আসার পর বদলে যায় সেবা কার্যক্রম। বর্তমানে এ স্বাস্থ্য পরিবার কেন্দ্রটি শুধু এ ইউনিয়নে সীমাবদ্ধ নয় এখানে বিজয়নগর, সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসুদেব ইউনিয়ন, আখাউড়া দক্ষিণ, মোগড়া ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার প্রসূতি মায়েরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন।

আরো জানা যায়, এ উপজেলায় ইউনিয়ন ভিত্তিন ৪টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কন্দ্রে রয়েছে। ওই ৪টি কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে আখাউড়া উত্তর, মনিয়ন্দ ও ধরখার ইউনিয়নের কেন্দ্রটি সচল রয়েছে। ওইসব কেন্দ্রগুলোর মধ্যে প্রসূতি মায়েদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

সালেহা খাতুন বলেন, সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করালে এতে মা ও শিশু উভয়ের জীবনই ঝুঁকিতে থাকে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে তিনি সিজার ছাড়াই শিশু জন্মের কাজ করছেন। নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য নরমাল ডেলিভারির কোনো বিকল্প নেই। এ পযর্ন্ত তিনি সিজার ছাড়া প্রায় ২ হাজার প্রসূতি মায়ের সন্তান প্রসব করিয়েছেন বলে জানায়।

দুর্গাপুর এলাকার রানা মিয়া বলেন, হঠাৎ শেষ রাতে তার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা উঠে। গর্ভবতী হওয়ার পর এখান থেকে চিকিৎসা সেবা নেওয়ায় তাই আসা। আল্লাহর মেহেরবানিতে সিজার ছাড়াই তার স্ত্রীর সন্তান হয়। এ কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথাও হলে প্রসব ও পরবর্তী খরচ নিচে ২৫হাজার টাকার উপর লাগতো। মাত্র স্বল্প টাকায় সব কিছু মিটে যাওয়ায় বেজায় খুশি তিনি।

বিজয়নগরের সিঙ্গারবিল এলাকা থেকে আসা ফাতেমা আক্তার বলেন, লোকমুখে শুনে আজমপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরবিারকল্যাণ কেন্দ্রে আসেন তিনি। প্রথম সন্তানের মা হবেন তাই নানা রকম দুশ্চিন্তা ছিল। গত এক সপ্তাহ আগে কোন প্রকার সিজার ছাড়াই তার নরমাল ডেলিভারি হয়। বর্তমানে মা সন্তান দুজনই ভালো আছে। পৌর শহরের তারাগন এলাকার তাহমিনা আক্তার বলেন, গর্ভবতী হলে প্রথম থেকেই তিনি এখানে নিয়মিত আসছেন। আগামী মাসের ১৫ তারিখ তার সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দরুইন গ্রামের মো. জামাল মিয়া বলেন, এখানে বিনা খরচে যে ধরনের সেবা পাওয়া যায়, যা কোনো বেসরকারি হাসপাতালে টাকা দিয়েও ঠিতমতো এ সেবা পাওয়া যায় না। তাই তিনি তার স্ত্রীর সন্তান প্রসব এখানে করিয়েছেন।

সেবা নিতে আসা একাধিক নারী জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনো প্রকার সিজার ছাড়াই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব করা হয়। জটিল কোনো সমস্যা হলে জেলাতে পাঠানো হয়।

ধরখার এলাকার পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শক রিনা বেগম বলেন, স্থাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মধ্যে দিন দিন সেবা কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুই মাসে ২০ জন প্রসূতি মায়ের সিজার ছাড়া সন্তান প্রসব করা হয়েছে।

আজমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ভূইয়া স্বপন বলেন, এখনকার মায়েদের কিংবা তাদের পরিবারের মাঝে সিজার করার প্রবণতা খুব বেশি। বিশেষ করে প্রবাসী পরিবার হলে তো কোনো কথাই নেই। আমরা চেষ্টা করছি সরকারি এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সিজার ছাড়াই প্রসুতি মায়েদের সেবা ভালো দিতে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমওএমসিএইচ কর্মকর্তা ডা. হাসমত আরা জাহান বলেন, আজমপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি গোটা উপজেলার মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসার যেন কোনো ত্রুটি না হয় সে বিষয়ে খুবই সতর্ক রয়েছি। ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রতিটি কেন্দ্রে দিনে দিনে বাড়ছে চিকিৎসা সেবা।

 

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম / ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ / আল-আমিন


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ