1. [email protected] : Faisal Ahmed : Faisal Ahmed
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
হাফিজুলের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসুন
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

একটি মুখের হাসির জন্য...

  • আপডেটের সময় : সেপ্টেম্বর, ৯, ২০২১, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
হাফিজুল ইসলাম
হাফিজুল ইসলাম

হাফিজুলের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসুন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: প্রাণোচ্ছল এক তরুণ হাফিজুল ইসলাম। হাসি তার মুখে লেগেই থাকে। যারা চেনেন, তারা জানেন-পরোপকারী হাফিজুল পরিচিত যে কারো বিপদেই ছুটে যান সবার আগে। উনচল্লিশ বছর বয়সী এই উচ্ছ¡ল তরুণের শরীরেই বাসা বেঁধেছে জটিল এক রোগ। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। অতিসম্প্রতি তার শরীরে এই রোগ ধরা পড়েছে। যার চিকিৎসার জন্য বিস্তর অর্থের প্রয়োজন।

হাফিজুল কাজ করেন দৈনিক শ্যামল সিলেটর বিজ্ঞাপন বিভাগে। সেখানের আয় দিয়েই তার সংসার চলে। স্ত্রী আর দুই সন্তানকে নিয়ে হাফিজুলের সংসার। সিলেট নগরের শিবগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকেন। যা আয় করেন তা দিয়ে সংসারের খরচ সামলাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে তার সঞ্চয় নেই বললেই চলে।
এ অবস্থায় জটিল রোগের ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাফিজুল ও তার পরিবার। তার হাসিখুশি মুখ এখন মলিন। নিজের চিকিৎসা ব্যয় আর সংসারের ব্যয় কোথা থেকে আসবে-এমন চিন্তা আর অসুখের যন্ত্রণায় কুঁকড়ে আছেন হাফিজুল।

এই দুর্দিনে হাফিজুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার সাবেক ও বর্তমান সহকর্মীরা। হাফিজুল যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে, সেই শ্যামল সিলেটের পক্ষ থেকেই নেওয়া হয়েছে উদ্যোগটি। হাফিজুলের চিকিৎসা সহয়তার এই উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তার সুহৃদরাও। কিন্তু তাদেরই বা সাধ্য কতটুকু! যে রোগ বাসা বেঁধেছে হাফিজুলের শরীরে, তার চিকিৎসার ব্যয় যে বিশাল!

তবে হাফিজুলের সহকর্মীদের এই উদ্যোগে সমাজের হৃদয়বান ও বিবেকবান মানুষেরা এগিয়ে এলে এই চিকিৎসা ব্যয় সংকুলান করা নিশ্চয়ই কঠিন কিছু নয়। বিন্দু বিন্দু জলকনাতে তো সাগর মহাসাগর হয়ে যায়। একটি একটি করে ইট মিলে গড়ে ওঠে বিশাল দালান। আর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষ তো কত অসাধ্যই সাধন করে ফেলেছে। মানুষের এই সম্মিলিত শক্তি আর মহৎ হৃদয়ই এখন হাফিজুল আর তার পরিবারের একমাত্র ভরসা।

হাফিজুলের ছেলের নাম রাহুল আমিন। তার বয়স ১২। আর মেয়ে হাফিজা আক্তারের বয়স ৭। দীর্ঘ বন্ধের পরে তাদের স্কুল খুলছে। সব বাবা যখন তাদের সন্তানের স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন হাফিজুল সিলেট আর ঢাকায় এ ডাক্তার থেকে ও ডাক্তারের কাছে দৌঁড়াচ্ছেন। গাদাগাদা টেস্টের পেছনে ব্যয় করছেন কাঁড়িকাঁড়ি টাকা। হাফিজুলের সুস্থতার উপর নির্ভর করছে এই শিশুদের মুখের হাসি আর তাদের শিক্ষাজীবন।

নিজের জন্য, নিজের সন্তানদের জন্য হাফিজুল তাই হাত বাড়িয়েছেন সমাজের হৃদয়বান মানুষদের প্রতি। সকলে মিলে তার প্রসারিত হাতটি ধরলেই আবার উঠে দাঁড়াতে পারবেন এই তরুণ। সুস্থ হয়ে ফিরতে পারবেন স্বাভাবিক জীবনে।

হাফিজুলের চিকিৎসা সহায়তার ইতোমধ্যে একটি তহবিল গঠন করেছেন তার সহকর্মীরা। হাফিজুলের স্ত্রী শিউলী বেগমের পূবালী ব্যাংক সিলেটের শিবগঞ্জ শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাবও খোলা হয়েছে। যার একাউন্ট নম্বর-৪৯৬৯১০১০০১৪৯৯। এছাড়া হাফিজুলের বিকাশ নাম্বারেও (০১৭১২৪০৩৫৩৩) সহযোগিতা পাঠানো যাবে।

সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে এলে জটিল এই রোগের সাথে যুদ্ধে লড়াইয়ের সাহস ও রসদ পাবেন হাফিজুল। হাফিজুলের সহকর্মীদেরও প্রত্যাশা এই- হাফিজুলের চিকিৎসায় এগিয়ে আসবেন সকলে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন এই তরুণ। ফিরবেন নিজের কর্মক্ষেত্রে। হাসি ফুটবে তার পরিবার আর সন্তানদের মুখে। বাঙালি তো সেই জাতি- যারা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরে। স্বজাতির এই মহত্বের উপর হাফিজুল নিশ্চয়ই ভরসা রাখতেই পারেন।

ইতোমধ্যে তরুণ সংবাদপত্রকর্মী হাফিজুলের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ। বৃহস্পতিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত তার সহায়তা তহবিলে জমা হয়েছে ৫০হাজার ৫০০টাকা।

নগদ অর্থদিয়ে তার চিকিৎসা সহায়তায় যারা পাশে দাড়িয়েছেন তাঁরা হলেন- শ্যামল সিলেট’র সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ১০,০০০টাকা, বাংলাভিউ টিভির সম্পাদক শাহ দিদার আলম নবেল ১০,০০০টাকা, মানবজমিন ও ইটিভির ব্যুরো প্রধান ওয়েছ খছরু ৫,০০০টাকা, প্রথম আলোর ব্যুরো প্রধান উজ্জল মেহদী ৫,০০০টাকা, সমকালের ব্যুরো প্রধান চয়ন চৌধুরী ৩,০০০টাকা, সময়ের আলোর ব্যুরো প্রধান মনোয়ার জাহান চৌধুরী ২,০০০টাকা, উত্তরপূর্ব পরিবারের পক্ষ থেকে বার্তা ফখরুল ইসলাম ৫,০০০টাকা, বনিক বার্তার নিজস্ব প্রতিবেদক দেবাশীষ দেবু ২,০০০টাকা, একাত্তরের কথার মফস্বল সম্পাদক আনন্দ সরকার ২,০০০টাকা, শ্যামল সিলেট’র প্রধান প্রতিবেদক মো. নাসির উদ্দিন ২,০০০টাকা, সিনিয়র আলোকচিত্র সাংবাদিক আবু বকর ১০০০ টাকা, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি সলিল বরণ দাস ৫০০টাকা, দক্ষিণ সুরমার দেওয়ান নিজাম খান ১০০০ টাকা, নগরীর লামাপাড়ার সৈয়দ মিনহাজ উদ্দিন মুসা ৫০০টাকা, বালাগঞ্জের মামুনুর রশিদ সোহেল ১০০০টাকা, রায়হাদ বকস্ ও মোস্তফা কামাল ফরহাদ ৫০০টাকা।

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১/ এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ