1. [email protected] : Faisal Ahmed : Faisal Ahmed
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
আর বিলম্ব না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হোক
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

  • আপডেটের সময় : সেপ্টেম্বর, ৩, ২০২১, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ফাইল ছবি

আর বিলম্ব না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হোক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহীদ আহমদ চৌধুরী :: পৃথিবীতে মহামারি শত বছর পর পর আভিভূত হয়। এক এক সময় এক এক নামে ধরন পরিবর্তণ করে আসে। তৈরি হয় বিপর্যয় দেখা দেয় মহামারি আকারে।তার অনেক ইতিহাস অনেক নজির রেখে গেছে যুগে যুগে। বিজ্ঞানের এ যুগে মানুষ যখন মহাকাশে বসবাস করার স্বপ্নে বিভোর তখন প্রাচীন চীনে দেখা দিল এক মহামারি ভাইরাস যার নাম বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছে কভিড-১৯, রোগের নাম দাড়ায় SARS-CoV 19। যা ছোয়াছে প্রকৃতির আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শ থেকে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়। চীনের উহান প্রদেশে প্রথম এই রোগ দেখা দেয়।পরে তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। চীনেই প্রথম এ রোগ দেখা দেয় এবং চীনই প্রথম তা থেকে নিরাময় লাভ করে।

বাংলাদেশে কভিড-১৯ দেখা দেয় গত বছর মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে(৮ মার্চ) প্রথম তিন জন রোগী করোনা আক্রান্ত হয়।পর্যায়ক্রমে তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সরকার যখন দেখলো যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তেই আছে তখন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা গুলোতে সংক্রমন রোধে সাধারন ছুটি ঘোষনা করে। এক সময় করোনা আরো বাড়লে সরকার লকডাউন ঘোষনা করে। ছুটির সময় পার হলে আবার ছুটি বাড়ানো হয়। এক সময় লকডাউন ও বাড়ে।ব্যবসায়ীদের কথা কথা চিন্তা করে সাময়িকভাবে লকডাউন শিথিল করা হয় শর্ত সাপেক্ষে।যেখানে তিন ফুট দুরত্বে থেকে ব্যাংক লেনদেন মসজিদে নামায বার বার হাত ধৌয়া ও বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক ছিল। সকল সরকারী বেসরকারি অফিস সচল ছিল সেখানেও এই শর্ত অরোপ ছিল।

কিন্তু সব কিছুই থেমে থেমে চলতে থাকলে ও আজোঅব্ধি খোলেনি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা।নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ, একটাই দেখছি ছুটি বাড়ছে। আর কোন উদ্যোগ দেখিনি সরকার কিংবা শিক্ষক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিস্ট কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে। তার জন্য সরকার ও তার নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে রোডম্যাপ আসা উচিৎ ছিল। সেখান আজ সতের মাস পর কোন পরিকল্পনা দেখতে পাইনি।হয়নি এখনো সকল স্কুল কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত।

এতে করে মন ভেঙ্গ যাচ্ছে স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা ও প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রদের ছাত্রীদের। দীর্ঘদিন এসব শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ থাকায় লেখা পড়া থেকে মনে সরে এক ঘুয়োমি হয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।পাশাপাশি মোবাইল গেইম্স ও কার্টুনের দিকে ঝুকে পড়ছে শিক্ষার্থী রা।সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা মোবাইল বা ট্যাবে ক্লাস করলেও অনেকের পক্ষে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি বা উঠছে না। এতে করে যে পরিবারের শিক্ষা র্থীরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্লাস করতে পেরেছে তারা এগিয়েছে। যারা ফোন ট্যাব কিনে ক্লাস করতে পারেনি তারা অনেকদূর পিছিয়ে পড়েছে।শুধু তাই নয় অনেক ছাত্র ছাত্রীর পড়া লেখা বন্ধ হয়ে পড়েছে।

অনেক দরিদ্র পরিবারের ছাত্র ছাত্রীরা লেখা পড়ার স্বপ্ন ভুলে জীবিকার সন্ধানে নেমেছে। আবার দরিদ্র পরিবারের যে মেয়েটি উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল তাকে অল্প বয়েসে নববধূ সেজে স্বামীর সংসারের হাল ধরতে হয়েছে কিশোরী বয়সে। এসব ক্ষতি আর কোন দিন কোন কালে পোষাবার নয়।কত স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো এই সতের মাসে।তার জন্য আমরা কাকে দায়ী করব?আর কি ফিরে আসবে তাদের সেই হারানো স্বপ্ন। প্রাইমারি থেকে হাই স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি কত আনন্দ। অনেক ছাত্র ছাত্রী হয়তো প্রাইমারি সমাপনি শেষ করতে পারেনি।সেই সাথে এক বছর

পেরিয়ে গেলো উচ্চ বিদ্যালয়ের রঙ্গিন দেয়ালটাই দেখা হলো না।কলেজের ছাত্রছাত্রীদের এক বছর পেরিযে দ্বিতীয় বছরে পদার্পন করলো ও অথচ কলেজের ক্যাম্পাস ও তার রঙ্গিন দিনগুলি দেখাই হলো না তাদের। আর কত ছাত্র ছাত্রী এমন শঙ্কায় থেকে পড়ায় পাট চোঁকে বসেছে। বাংলাদেশের সব মিলে মোট ছাত্রছাত্রী প্রায় ৪ কোটির মতো।এসব ছাত্র ছাত্রীর শিক্ষা জীবন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। কারন এ পর্যন্ত সতের মাস কেটে শুধু ছুটি বাড়িয়ে বাড়িয়ে।

শিক্ষার্থীদের জন্য নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। যা পরিকল্পনা করে করে শিক্ষা প্রতিষ্টান চালু করা যেতো।তেমন কিছুই চোঁখে পড়েনি এই সতের মাসে।যা শুধু ছুটি বাড়ানো হয়েছে,আর কিছুই হয়নি।এখনো কোন পরিকল্পনা হয়েছে বলে মনে হয়না। যদি ও গেলো সপ্তাহ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান খোলার ব্যাপারে বেশ আলোচনা শোনা যাচ্ছে।

 

শিক্ষার্থীদের জন্য নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। যা পরিকল্পনা করে করে শিক্ষা প্রতিষ্টান চালু করা যেতো।তেমন কিছুই চোঁখে পড়েনি এই সতের মাসে।যা শুধু ছুটি বাড়ানো হয়েছে,আর কিছুই হয়নি।এখনো কোন পরিকল্পনা হয়েছে বলে মনে হয়না। যদি ও গেলো সপ্তাহ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান খোলার ব্যাপারে বেশ আলোচনা শোনা যাচ্ছে।বেশ কিছু প্রতিষ্টান মানববন্দন ও করেছে। আবার বন্ধ হতে বসেছে অনেক শিক্ষা প্রতিস্টান।তার পর ও সরকারের পক্ষ থেকে কোন রোডম্যাপ হয়েছে কিনা জানা জায়নি।
আগামি ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে মেডিকেল কলেজ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানালেন স্বাস্হ্য মন্ত্রী। কিভাবে ক্লাস হবে তা বলা হয়নি।আর বলা হয়েছে পর্যায়ক্রমে সেপ্টেম্বরের ভিতর সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান খোলে দেয়া হবে। বিশ্বব্যাপী করোনার মধ্যে আমরা দেখেছি আমাদের চেয়ে ভয়াবহ করোনার ছোবল ছিল, ইউরোপে,আমেরিকা,ইংল্যান্ড,ও পার্শবর্তী দেশ ভারতে। এসব দেশের কোথাও কিন্তু একটানা শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ ছিল না। তারা কিছুদিন বন্ধ রেখেছে আবার চালু করেছে,আবার বন্ধ রেখেছে। এভাবেই তারা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্টান কে চালু রেখেই করোনা মোকাবেলা করেছে। এখনো করোনা আছে পাশাপাশি তাদের সবকিছু চালু রয়েছে।আর আমাদের উল্ঠো ব্যবসায়ীদের চাপে ভয়াবহ করোনার মধ্যে ও চালু করে দেয়া হয়েছিল গার্মেন্স।অথচ মানুষ গড়ার কারখানা শিক্ষা প্রতিষ্টান রয়েছে বন্ধ অন্য সব কিছুই চালু হয়েছে। যদি ও বলা হচ্ছে চলতি মাসেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান খোলে দেয়া হবে, কিভাবে হবে তা কিন্তু বলা হয়নি। ক্লাস কিভাবে নিবে, সিলেবাস কমাবে কি না? না কি সময় কমিয়?প্রতিদিন হবে না কি সপ্তাহে দুই বা তিন দিন হবে? কোন পরিকল্পনা এখনো জানাজায়নি। সময় হলে আমরা তা দেখবো।তবে সরকার চাইলে পরামর্শ করে একটি সুন্দর রোডম্যাপ করতে পারেন।যেহেতু এটা একটি জাতীয় সমস্যা তাই এখানে কে কি বল্ল তা বিবেচনা না করে সমাজের বিভিন্ন জনের মতামত নিয়ে করতে পারেন।
এখন আমাদের ছেলে মেয়েদের জন্য স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, ইউনিভার্সিটি চালু হলে আমাদেরকেই বেশি খেয়াল রাখতে হবে।পাশাপাশি সরকার কিছু উদ্যোগ নিতে পারে যেমন:
১/টিকার ব্যবস্থা করা
২/টিকা না পাওয়া পর্যন্ত যারা স্কুল কলেজ মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিতে আছেন তারা স্কুল খোলার আগে স্কুলে ছাত্রদের দুরত্ব বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করা।
৩/যেসব শিক্ষক এখনো টিকা নেননি তাদের টিকা নেয়া নিশ্চিত করা।
৪/ছাত্র ছাত্রীদের জন্য মাস্ক হ্যান্ডস্যনিটাইজার ও হাত ধৌয়ার ব্যবস্থা কর।
৫/নিয়মিত দুজন ডাক্তার সম্ভব হলে বাড়ানো যাবে উপজেলায় মোলাইল টিম হিসেবে রাখতে হবে শুধু স্কুল কলেজ চলাকালীন সময় পর্যন্ত।
৬/পাঠ্যবইয়ের সিলেবাস কমিয়ে নিতে হবে/সময় বাড়াতে হবে।প্রয়োজনে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
৭/যে সকল স্কুলে ছাত্র ছাত্রী বেশি সেখানে সেকশন ভাগ করে ক্লাস নেয়া যেতে পারে।
৮/যারা অনলাইনে ক্লাস করতে পারেনি তাদের বাছাই করে আলাদা সময় দিতে হবে।
৯/অনলাইন ক্লাস যদি থাকে তাহলে গরীব ছাত্র ছাত্রীদের মোবাইল ফোন, ট্যাব ও ফ্রি ইন্টারনেট দেয়া যেতে পারে।
১০/ যথ তাড়া তাড়ি সকলের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
তাহলেই আমাদের ছাত্র ছাত্রীরা আবার পাঠ্যবই মুখি হবে।আমাদের সন্তান আমাদের ছাত্রছাত্রী যা লোকসান হবার হয়েছে। আমরা শত চেষ্টা করলে ও আর তা ফেরত পাব না কোনদিন। তাই আর যাতে বিলম্ব না হয় বিদ্যালয় গুলো খুলে দিতে সেদিকে সরকার কে আর আন্তরিক হতে হবে।এবং তার জন্য যা প্রয়োজন তা গ্রহন করতে হবে।যথদ্রূত সম্ভব টিকার ব্যবস্থা করতে হবে। টিকা দেয়ার আগ পর্যন্ত যা যা করনীয় তা সরকার কেই করতে হবে। আমাদের সন্তানরা বিদ্যালয়ে যাক প্রাণ খুলে হাসুক, সুস্থ ও সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠুক, বিদ্যালয় গুলো মুখরিত হোক তাদের পদচারনা ও চিরচেনা রুপে এইটুকু প্রত্যাশা।যা হারিয়েছি তা আর খুঁজতে চাইনা।করোনা কে ভয় নয় জয় করে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

লেখক: সাংবাদিক/কলাম লেখক

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১/ এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ