1. [email protected] : Faisal Ahmed : Faisal Ahmed
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
পুলিশের রেকার বাণিজ্য আর কতদিন
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৭ অপরাহ্ন

  • আপডেটের সময় : আগস্ট, ৪, ২০২১, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
পুলিশের বেকার বাণিজ্য আর কতদিন
ছবি-সংগৃহীত

পুলিশের রেকার বাণিজ্য আর কতদিন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: সিলেট মেট্রোপলিটন ট্রাফিকপুলিশ নগরীর যানজট নিরসনে ও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্ঘটনা প্রতিরােধে প্রতিদিন নানা টিমে বিভক্ত হয়ে চেকপােস্ট বসিয়ে অবৈধ যানবাহন রেকার করছে। কাগজপত্রে ক্রুটি থাকলে দিচ্ছে মামলা। টাফিক পক্ষ, পরে লকডাউনে বেড়েছে রেকার ও মামলার পরিমাণ।

কোন যানবাহনে কত জরিমানা
অবৈধ হিসেবে রেকার হলে প্রতি রিকশা ৫শত, সিএনজি অটোরিকশা ৬শত, লেগুনা লাইটেস, মােটরসাইকেল, পিকআপভ্যান মাইক্রোবাস, মিনিবাস, ট্রাক ২ হাজার টাকা রেকার বিল (গাড়ি টানার ট্রাক) সেই সাথে মামলার টাকা পরিশােধ করে পুলিশ লাইন্স থেকে যানবাহন ছাড়িয়ে নিতে ৯শত, কার ১২শত ও হয়। যেখানে আটককৃত মােটরসাইকেলের তেল পুড়িয়ে গাড়ি চালিয়ে নেয়া হয় সেখানে রেকার বিল নির্ধারিত হয় কিভাবে ১২শত টাকা? সেই সাথে যানবাহন মালিককে গুনতে হয় মামলার জরিমানার টাকাও। একমাত্র অচল যানবাহন ও বড় গাড়ি রেকার ট্রাকে টেনে নেয়া হয়। অন্যরথায় আটক হওয়া প্রায় সব যানবাহন চালিয়ে পুলিশ লাইন্স নেয়া হয়।

১৪ দিনে রেকার বেশি, মামলা কম
লকডাউনের প্রথম দিনে ১৩৫টি, ২য় দিনে ১১৬টি, ৩য় দিনে দিনে ২১৮টি, ৪র্থ দিনে ২২৩টি, ৫ম দিনে ১৬৩টি, ৬ষ্ঠ দিনে ১৪৩টি, ৭ম দিনে ৭৬টি, ৮ম দিনে ১১৬টি, ৯ম দিনে ৩৪টি, ১০ম দিনে ১০০টি, ১১তম দিনে ৮৪টি, ১২তম দিনে ৯৫টি, ১৩তম দিনে ১১১টি,১৪তম দিনে ১০২টিসহ মােট ১৭১৬টি
যানবাহান আটক করা হয়। আর লকডাউনের ১৪দিনে মামলা দেয়া হয় ১১০৮টি যানবাহনে। মামলার যানবাহন আটক বেশি হয়।

যেভাবে ছয়নয় হচ্ছে কোটি টাকা
যানবাহনে মামলা দিলে বা আটক করলে দুই ধরনের রশিদ (ভাউচার) এসএমপি মেশিন (ডিজিটাল) পদ্ধতি। যা সরাসরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হয়ে মামলার রশিদ। বের হয়ে আছে। অন্যটি ৫০ পৃষ্ঠার বই (এনালগ)। গাড়ি আটক হলে হাতে লিখে ছিড়ে দেয়া হয় রশিদ। যেগুলার রশিদ মেশিনে দেয়া হয় সে টাকা বিকাশে (ইউসিবির) মাধ্যমে সরাসরি সরকারের ব্যবহার করে ট্রাফিকপুলিশ। কোষাগারে জমা হয়। আর হাতে লেখা রশিদের মাধ্যমে জরিমানার টাকা অর্ধেক যায় চুক্তি মালিকদের পকেটে আর বাকি অর্ধেক যায় ট্রাফিকপুলিশের অফিসে। সরকারি রেকার-১ এর পুরাে টাকাও ট্রাফিক অফিস পায়।

হিসেবে কষেদেখা যাক; প্রতি গাড়ি রেকার বিল ন্যূনতম (রিক্সা ৫০০) ৫শত টাকা ধরে হিসেব করলে (১৭১৬x৫০০) দাঁড়ায় ৮৫ লক্ষ ৮ হাজার টাকা। আর নিখুঁত হিসেবে কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এটা ১৪ দিনের লকডাউনের হিসেব। তার আগে বা পরে মাসে, বছরে কত টাকা রেকার থেকে আয় হয় সে হিসেব না পাঠকরা করবেন। জনসাধারণের কাছ থেকে আদায় এসব টাকা সরকারের কোষাগারে না দিয়ে মালিকানা রেকার ব্যবস্থা চালু করা করা হয়েছে ব্যক্তি স্বার্থে। অতীতের ন্যায় পুলিশ সদস্যদের দিয়ে পুলিশ লাইনে জব্দ গাড়ি পাঠানাে হলে আটক হওয়া গাড়ির জরিমানার বিশাল অংকের টাকা জমা হত সরকারের কোষাগারে। তাতে বাড়ত সরকারের রাজস্ব।

পুলিশ লাইনে যারা গাড়ি নেয়

সার্জেন্ট যানবাহন আটক করলে রেখার তলব করেন। নগরীতে তিনটি রেকার গাড়ি (টেনে নেয়ার ট্রাক) রয়েছে। তার মধ্যে রেকার-১(হাইড্রোলিক) সরকারি, রেকার -২ রেকার -৩ ও ( নন হাইড্রোলিক) চুক্তিভিত্তিক রেকার -২ (নং -ঢাকা ই ৫৩৩) এর মালিক কুমিল্লার পিংকু এবং রেকার -৩ (নং চট্রগ্রাম ই ৫৮৯) এর মালিক বরিশালের অনিক। পিংকুর রে কার ড্রাইভার হিসেবে কাজ করে শহিদ,খোরশেদ, ঝুমন, সায়েম, খলিল, সাহেদসহ প্রায় ২৫ যুবক। অপরদিকে অনিকের রেকার ড্রাইভার হিসেবে কাজ করে রুবেল ১,রুবেল ২, রুবেল ৩, সাহেদ, পিন্টু, শামীম ১, শামীম ২, খলিল, জুনেল, নাঈমসহ ৩০ জন যুবক। পুলিশ লাইনে যানবাহন ( পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস, মিনিবাস ট্রাক ছাড়া) পৌঁছে দিলে প্রতি ৫০ টাকা কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করে ওইসব যুবকরা। অভিযোগ আছে কম বয়সী এই রেকার ড্রাইভাররা পুলিশ লাইন্স মাঠে যাতায়াতের সময় গাড়ি থেকে লুকিং গ্লাস টায়ার যন্ত্রাংশসহ গাড়িতে থাকা আসবাবপত্র চুরির সাথে জড়িত। লকডাউনের শেষ দিকে কাজির বাজার ব্রিজ এলাকায় একটি প্রাইভেটকার জব্দ করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত। মাথায় লাল কাপড় বাঁধা হবিগঞ্জের মানিক চন্দ্র দাস পরদিন জরিমানার ৩৬শ টাকা পরিশোধ করে পুলিশ লাইন্স থেকে কার ছাড়িয়ে নেন। করে দেখেন তার গাড়ির চাকা বদল করা। এক ফেসবুক লাইভে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

এদিকে চেকপোস্ট বসানো বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্বরত সার্জেন্টদের আপ্যায়ন সেই সাথে নগদ অর্থ দিয়ে খুশি রাখতে হয় অনিকক ও গ পিংকুকে। সার্জেন্টরা খুশি থাকলে বেশি করে মোটরসাইকেল জব্দ হবে, বাড়বে টাকার পরিমান।

অন্যদিকে মাসিক মোবাইল খরচ হিসাবে রেকার মালিকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে পায় ট্রাফিক পুলিশের চারজন রেকার অপারেটর। অনিক পূর্বে পিংকুর রেকার ড্রাইভার হিসেবে কাজ করলেও ট্রাফিক অফিস এর উপর মহলকে খুশি করে সে এখন রেকার মালিক। অভিযোগ আছে ঘরে বউ বাচ্চা রেখে অনিক অল্প বয়সি মেয়েসহ মোটরসাইকেল করে ঘুরে বেড়ায় এবং মেয়েদের নিয়ে টিকটক করে। কয়েকজন পুলিশ সদস্যের প্রশ্রয়ে আমোদ-ফুর্তি মত্ত থাকে।

চুক্তিভিত্তিক দুই রেকারই অবৈধ

যে পুলিশ বিভাগ অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গাড়ি বেকার করে, মামলা দেয় তারা নিজেও জানে না চুক্তিভিত্তিক দুই রেকারই ( ট্রাক) অবৈধ। বাংলার বারুদের অনুসন্ধানে যতটুকু জানা যায় রেকার -২ গাড়ি ( নং ঢাকা ই ৫৩৩) রেজিস্ট্রেশনের নাম্বার থাকলেও কয়েক বছর আগে থেকে সে গাড়ি সব ধরনের কাগজপত্র ফেল রয়েছে। আর রেকার- ৩ গাড়ির কোন ধরনের বৈধ মালিকানা কাগজপত্র নাই। যদিও ( চট্রগ্রাম ই ৫৮৯) একটি নাম্বার প্লেইট যুক্ত রয়েছে। যা মোটরযান আইনে দুটি রেকার অবৈধ। সিলেট ট্রাফিকের উপ-পুলিশ কমিশনার ফয়সল মাহমুদ এই বিষয়গুলো নিয়ে কি ধরনের চিন্তা চেতনা পোষণ করেন তা সচেতন মহলে জানার আগ্রহ রয়েছে।সূত্র- বাংলার বারুদ

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /০৪ আগস্ট ২০২১/ এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ