1. [email protected] : Faisal Ahmed : Faisal Ahmed
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
উহানের সেই ল্যাবে জ্যান্ত বাদুড়ের গবেষণা
বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

  • আপডেটের সময় : জুন, ১৬, ২০২১, ২:৩১ পূর্বাহ্ণ
উহানের সেই ল্যাবে জ্যান্ত বাদুড়ের গবেষণা
ছবি-সংগৃহীত

উহানের সেই ল্যাবে জ্যান্ত বাদুড়ের গবেষণা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: মহামারী সৃষ্টি করা নভেল করোনা ভাইরাসের উৎস নিয়ে চীনকে আড়ালের অভিযোগ আগেই উঠেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিরুদ্ধে। কিন্তু এবার তাদের বিরুদ্ধে রীতিমতো মিথ্যাচারের অভিযোগ উঠছে, যার নেপথ্যে রয়েছে পুরনো একটি ভিডিও। যাতে দেখা গেছে, যেখান থেকে প্রথম করোনা সংক্রমণ শুরু হয় সেই চীনের উহান শহরের ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে একঝাঁক জ্যান্ত বাদুড় খাঁচায় ভরে রাখা হয়েছে। তাদের শরীর থেকে নানা ভাইরাস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন গবেষকরা। অথচ এর আগে ডব্লিউএইচও জানিয়েছিল, উহানের গবেষণাগারে জ্যান্ত বাদুড় নিয়ে কোনো পরীক্ষা হয়নি। আর তাতেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ডব্লিউএইচওর ভূমিকা।

বিগত দেড় বছর ধরে গোটা বিশ্ব মহামারীর কবলে থাকলেও, করোনার উৎস নিয়ে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি গবেষকরা। তবে বাদুড়ের শরীরে ইতোমধ্যেই এই সার্স কোভিড ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। সেখান থেকেই মানুষের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করেছে বলে মত গবেষকদের একটা বড় অংশের। তাদের মতে, জ্যান্ত বাদুড় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে উহানের ওই গবেষণাগার থেকেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট জোরালো। সে নিয়ে একাধিকবার চীনকে কাঠগড়ায় তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশ। কিন্তু বেইজিংয়ের তরফে বরাবরই তা অস্বীকার করা হয়েছে।

তার মধ্যেই সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার স্কাইনিউজ কয়েক বছর আগের একটি ভিডিও সামনে এনেছে। ২০১৭ সালে মে মাসে উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে চারস্তরীয় জৈব নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। চীনের অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের তরফে প্রকাশ করা হয় তার একটি ভিডিও। যাতে দেখা যায়, খাঁচায় ভরে রাখা হয়েছে একঝাঁক জ্যান্ত বাদুড়। পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢাকা বিশেষ পোশাক পরে বাদুড়গুলোকে চিমটা দিয়ে পোকা খাওয়াচ্ছেন গবেষকরা। একজনের টুপির ওপর ঝুলে রয়েছে একটি বাদুড়।
নিরাপত্তা মেনে কীভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়, সে কথা ভিডিওতে তুলে ধরা হয়। ফলে এই ভিডিও সামনে আসার পর করোনার উৎস প্রসঙ্গে ডব্লিউএইচওর গবেষকদের বিবৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উহানের ওই গবেষণাগারে যে তদন্তকারী দল পাঠিয়েছিল ডব্লিউএইচও, তাতে ছিলেন প্রাণীবিদ পিটার দ্যাজাকও। উহানের ওই গবেষণাগারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠছে, তা ষড়যন্ত্র বলে সেই সময় উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এক টুইটে তিনি লেখেন, জেনেটিক পরীক্ষার জন্য উহানের গবেষণাগারে কোনো বাদুড় পাঠানো হয়নি। বিজ্ঞানের কাজ অন্যরকম। বাদুড়ের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পাঠানো হয়। যেখানে বাদুড় ধরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, সেখানেই বাদুড়গুলোকে ছেড়ে দেওয়াই নিয়ম।

অন্য একটি টুইটে পিটার লেখেন, উহানের গবেষণাগারে বাদুড় নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার তত্ত্ব ষড়যন্ত্রমূলক ধারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন গবেষণাগারের সঙ্গে কাজ করছি, গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছি। ওই গবেষণাগারে কোনো জ্যান্ত বাদুড় নেই। জ্যান্ত বাদুড় নিয়ে সেখানে গবেষণা হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণও মেলেনি। এটা একটা ভুল ধারণা। আশা করি তা শুধরে নেওয়া হবে। পরে যদিও নিজের মন্তব্য থেকে সরে আসেন পিটার।

এদিকে এই ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর ডব্লিউএইচওর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। কিন্তু জ্যান্ত বাদুড় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা আবারও অস্বীকার করেছেন উহানের ওই গবেষণাগারের অন্যতম প্রধান ভাইরোলজিস্ট শি ঝেঙলি। উহানের গবেষণাগারে জ্যান্ত বাদুড় নিয়ে বিপজ্জনকভাবে তার বিরুদ্ধেই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সপ্তাহ দুয়েক আগে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শি বলেন, কীভাবে প্রমাণ দেব আমি? যা কখনো হয়নি, তার প্রমাণ কী করে জোগাড় করব? জানি না গোটা বিশ্ব কিসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। কোন যুক্তিতে বিজ্ঞানীদের কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে, জানি না।

খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /১৬ জুন ২০২১/ এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ