1. [email protected] : Faisal Ahmed : Faisal Ahmed
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
অনলাইন ফাঁদ ও নারী পাচার
বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

  • আপডেটের সময় : জুন, ১৫, ২০২১, ১:৫২ অপরাহ্ণ
অনলাইন ফাঁদ ও নারী পাচার
ছবি-প্রতীকী

অনলাইন ফাঁদ ও নারী পাচার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নাজমুন নাহার হেলেন :: গত কয়েকদিন ধরেই পত্রপত্রিকাগুলো নারী পাচার সংবাদ নিয়ে সরব। প্রথমে টিকটক হৃদয়  নামে এক পাচারকারীর নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হলে ভারতীয় পুলিশ তাদের ধরে ফেলে এবং ধরার পরে জানা যায় যে, তারা বাংলাদেশি। ফলস আইডি কার্ড বানিয়ে তারা অবাধে ভারত ও বাংলাদেশে চলাচল করছে। ভারতীয় পুলিশ ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্প্রতি ভারত থেকে পালিয়ে ছয় তরুণীর দেশে ফিরে আসার পর বের হয় নারী পাচারকারীদের নানান কৌশল। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা তরুণীরা ভয়ঙ্কর সব অভিজ্ঞতার কথা জানায়। তাদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন সরব হয়ে ওঠে। বিশাল চক্রের অনেককেই ধরে ফেলে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ‘টিকটক তারকা’ বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে গত এক বছরে দেড় হাজার তরুণীকে ভারত সীমান্ত পার করা হয়েছে বলে গ্রেপ্তারকৃত পাচারকারীরা জানায়।

নারী পাচার বাংলাদেশে নতুন কোনো ঘটনা নয়। এটা অনেক ক্ষত। ২০১৫ সালে নারী পাচারকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। ২০১৭ সালের পরে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার পর মানব পাচার বেড়ে যায়। ভারত, মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইউরোপ-আমেরিকাসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মানব পাচার হয়ে আসছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে গড়ে উঠেছে নারী পাচারের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

ইদানীংকালে অনলাইনের ফাঁদে ফেলে পাচার করা হচ্ছে তরুণীদের। এসব নারী ও শিশুদের নানারকম প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে পাচার করা হয় বিদেশে। তার পর পরিস্থিতির চাপে পড়ে তারা নানারকম দেহব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৭ লাখ মানুষ অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমান, যাদের একটি বড় অংশ যায় পাচার হয়ে। করোনাকালীন আর্থিক সংকটের কারণেও বেকার নারী-পুরুষসহ সবাই একটু সচ্ছল জীবনের আশায় এই চক্রের ফাঁদে পা ফেলছে। বহু কারণেই মানব পাচার হয়। পাচারের মাধ্যমে মানুষকে আধুনিক দাসে পরিণত করা হয়। বিশেষত নারী ও শিশুদের যৌন ব্যবসায় ও গৃহকাজের জন্য পাচার করা হয়। নারীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এ ছাড়া বাধ্যশ্রম, ঋণগ্রস্ত করে শ্রম আদায়, বাধ্য শিশুশ্রম, অবৈধ নিয়োগ এবং শিশুদের যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হিসাবে বিশ্বে প্রতিবছর এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাচার হয় ৮ লাখ মানুষ। জাতিসংঘের হিসাবে অবৈধ মানবপাচারের বাজার ৩২ বিলিয়ন ডলারের।

একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে দুই লাখ নারী-শিশু পাচারের শিকার হয়েছে। আরেকটি সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে পাচারের উদ্দেশে বছরে ৫০ হাজার মেয়েকে ভারতে পাচার করা হয়। এদিকে ২০১২ সালে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন হওয়ার পর মামলার সংখ্যা বাড়লেও বিচারে দেখা গেছে ধীরগতি। পুলিশ সদর দপ্তর ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ আইনে ছয় হাজার ৭৩৫টি মামলা হয়েছে। ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবপাচার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীনে অভিযুক্ত পাচারকারীদের বিচারের হার মাত্র ১৭ শতাংশ। এ আইনে গত বছর ৩১২টি মামলার তদন্ত করে সরকার। এর মধ্যে ২৫৬টি মামলায় ভুক্তভোগীরা যৌনদাসী হিসেবে পাচারের শিকার হয়েছিল।

২০১৯ সালে মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশে অগ্রগতির মধ্যে রয়েছে সাতটি মানবপাচার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং বিদেশে কাজের জন্য গমনেচ্ছু বাংলাদেশিদের শোষণকারী নিয়োগ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযাযী গত ৯ বছরে (২০১২-২০২০) যতগুলো মামলা হয়েছে, তাতে অন্তত এক হাজার ৭৯১ জন নারী মানবপাচারের শিকার হয়েছেন। মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে যত পাচারের ঘটনা ঘটে তার মধ্যে ২১ শতাংশই নারী। আর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২০ সালেই অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকালে ৩০৩ নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, দুবাইয়ে এখনো অন্তত দেড় হাজার বাংলাদেশি তরুণীকে বিভিন্ন বারে বাধ্যতামূলক কাজ করতে হচ্ছে, যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। জনশক্তি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোয় কর্মরত কিছু অসাধু ব্যক্তি, বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্ট ও কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর স্বজনরা নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত।

করোনাকালে যেখানে সীমান্তে স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ, সেখানে পাচারকারীচক্র কীভাবে নির্বিঘ্নে এসব অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে? দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা কী করছেন? মানবপাচার নিয়ে যতই হইচই করা হোক, এর অন্যতম আরেকটা কারণ হলো দেশে কর্মসংস্থানের প্রচন্ড অভাব। সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় কর্মসংস্থানের ওপর আরও জোর দিতে হবে। যে বাংলাদেশকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, সেই বাংলাদেশ কোনোভাবে নারী পাচারকারীর শীর্ষস্থানে অবস্থান করতে পারে না। জাতীয় স্বার্থেই জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।সিলেটের ডাক

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /১৫ জুন ২০২১/ এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ