1. [email protected] : Faisal Ahmed : Faisal Ahmed
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
জনতার হৃদয়ে আছেন কামরান
বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৬:০৮ অপরাহ্ন

  • আপডেটের সময় : জুন, ১৪, ২০২১, ১০:২১ অপরাহ্ণ
জনতার হৃদয়ে আছেন কামরান

জনতার হৃদয়ে আছেন কামরান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রেজওয়ান আহমদ : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য, মাটি ও মানুষের নেতা, অসহায় মানুষের বন্ধু বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের হাসিমাখা মুখটি হারিয়ে গেছে জনতার কাছ থেকে। মাটিও মানুষের নেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান চির বিদায় নিয়েছেন জনতার মাঝ থেকে। কামরানকে হারিয়ে নগরবাসী যেন অভিভাবক হারালেন। সুখে দুখে আর পাশে পাবে না প্রিয় এই নেতাকে। কামরান মারা গেলেও তিনি আছেন জনতার হৃদয়ে, থাকবেন চিরকাল। কামরানের স্মৃতি কোনো দিনও ভুলবে না সিলেটের মানুষ। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেলো মৃত্যুর একটি বছর।

ছোটবেলা থেকে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের কথা পরিচিতদের কাছ থেকে শুনেছি। কোনোদিন কাছে যাই নি। সুরমা বয়েজ ক্লাবের সদস্য হওয়ার পর থেকে ক্লাবের বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। এই সব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আসতেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তারপর থেকে পরিচয় হয়ে উঠে। এরপর থেকে ক্লাবের প্রোগ্রামে এলে বা অন্য কোথাও দেখা হলে হাসি দিয়ে বলতেন কেমন আছো। যার সাথে না মিশলে বুঝার উপায় ছিলো না তিনি কত বড় মনের মানুষ ছিলেন। সবসময় হাসি দিয়ে কথা বলতেন। যার কারণে সাধারণ জনতা এই প্রিয় নেতাকে মনের মধ্যে লালন করেছিলেন। যার জন্য বারবার জনতা বানিয়ে ছিলেন জনপ্রতিনিধি। অসহায় দরিদ্র মানুষের বন্ধু ছিলেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। ফলে রাত দিন সব সময় পাশে পেতেন প্রিয় নেতাকে। সিলেটের যে কোনো জায়গায় ছোট বড় দূর্ঘটনা, মারামারি, বিচার শালিস, সামাজিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক প্রোগ্রামে ছুটে যেতেন সবার প্রিয় নেতা কামরান। এমন কি দিনে রাতে নিজ বাসার দরজা খুলে রাখতেন সাধারণ মানুষের জন্য। কারো বিপদের কথা শুনলে ছুটে যেতেন আপন মানুষের মতো। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করতে গিয়ে কয়েকবার হামলার স্বীকার হয়েছেন তারপরও বসে থাকেননি জনতার কামরান। জীবনের মায়া ছেড়ে ছুটে চলেছেন সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে। মানুষের উপকার করাই যেন ছিল তার চিন্তা চেতনা। জনতার উপকার করে দিয়ে যেন শান্তি পেতেন তিনি। বিপদে পড়ে যার কাছে গেলে সহজে যেকোনো সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। যে কোন মানুষ বিপদে পরে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের কাছে গেলে খালি হাতে ফিরেননি। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আপনজনের মতো। যারা কামরানের কাছে গিয়েছেন তারা জানেন কত বড় মনের মানুষ ছিলেন তিনি। নিজের পরিবারের মতো সিলেটের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন সবসময়। যার কারণে শুধু সিলেটে নয় সারাদেশের মানুষ একনামে চিনতেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে। আর কোনদিন ফিরে আসবেন না এই প্রিয় নেতা।

বিশ্ব জুড়ে যখন মহামারী করোনা ভাইরাসে মানুষ মারা যাচ্ছে, তখন ঘরে বসে থাকেননি জনদরদী এই নেতা। করোনা ভাইরাসের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে ছিলেন কামরান। করোনা ভাইরাসের ভয়ে যখন অন্যরা ঘর থেকে বের হননি তখন বদর উদ্দিন কামরান জীবনের মায়া ছেড়ে অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুটে গেছেন তাদের কাছে। খাদ্য সামগ্রী দিয়ে হাসি ফুটিয়েছেন তাদের মুখে। অসহায় মানুষের জীবন খাদ্য সামগ্রী দিয়ে বাঁচাতে পারলেও নিজের জীবন বাঁচাতে পারলেন না কামরান। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালের ১৫ জুন মৃত্যুর কাছে হার মানলেন তিনি। ২০২১ সালের ১৫ জুন পূর্ণ হলো তাঁর মৃত্যুর একটি বছর।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি সিলেট নগরীর ছড়ারপাড় মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম বশির উদ্দিন আহমেদ ও মাতার নাম নুরুননেসা বেগম। তিনি দুর্গা কুমার পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর তিনি ১৯৭১ সালে সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য মুরারি চাঁদ কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে এখান থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৭৬ সালে তিনি মদন মোহন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় তিনি পৌরসভা নির্বাচনে দাড়িয়ে ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি সিলেট পৌরসভায় কমিশনার হিসাবে তিনবার দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৫ সালে তিনি সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সিলেট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০২ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়র হন।

২০০৩ সালের মার্চ মাসে বিএনপির প্রার্থী এম.এ হককে পরাজিত করে সিলেট মহানগরের মেয়র হন। ২০ হাজারের বেশি ভোটে কামরান বিজয়ী হন। ২০০৫ সালে, একটি টেনিস কোর্টের উদ্বোধন করতে গেলে, হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী বাংলাদেশ সদস্যরা তাকে হত্যার প্রয়াসে তাঁর দিকে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে হরকত উল জিহাদ-আল-ইসলামী বাংলাদেশের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে তাকে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০০৭ সালে তিনি সিলেট কিচেন মার্কেট ঘুষ মামলায় গ্রেপ্তার হন। মামলায় জামিন পেলেও কামরানকে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালার দায়ের করা অন্য মামলায় আটক করা হয়।

২০০৮ সালে কারাবন্দি থাকা অবস্থায়, ২০০৮ সালের মেয়র নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করার জন্য তিনি তার মনোনয়ন ফরম জমা দেন ও মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় বার নির্বাচনে জয় লাভ করেন। নির্বাচনে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৮৩ হাজার বেশি ভোট পেয়েছিলেন। ২০০৮ সালের ১৭ আগস্ট তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়। ২০০৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। কামরান ২০১৩ ও ২০১৮ সালের মেয়র নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। ২০০২ সালের সম্মেলনে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০৫ এবং ২০১১ সালের সম্মেলনেও পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের সম্মেলনে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি থেকে বাদ পড়েন তিনি। পরে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে স্থান পান।

২০২০ সালের ৫ জুন কোভিড-১৯ পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় তাঁকে সিলেট শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে, ২০২০ সালের জুনে তাকে বিমান অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ১৫ জুন ২০২০ সালে রাত তিনটায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধিন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। পরে তাকে তার নিজ শহর সিলেট নগরীর নয়াসড়কস্থ মানিকপীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম / ১৪ জুন ২০২১ / আল-আমিন


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ