1. [email protected] : Faisal Ahmed : Faisal Ahmed
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
মসজিদে ২০ জনের বেশি হলেই করোনা হয়ে যায় নাকি?
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন

  • আপডেটের সময় : এপ্রিল, ১৪, ২০২১, ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
মাহমুদুর রহমান নাছিম
মাহমুদুর রহমান নাছিম

মসজিদে ২০ জনের বেশি হলেই করোনা হয়ে যায় নাকি?

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাহমুদুর রহমান নাছিম :: একটা সুখবর পাওয়ার জন্য আজ সারাদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। কখন সন্ধ্যা হবে আর আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে এই সুখবর আসবে। যথারীতি মাগরিবের নামাজ আদায় করে মেঘাচ্ছন্ন আকাশে কিছুক্ষন থাকিয়ে রইলাম। কিন্তু ভাগ্যে নেই তাই পবিত্র মাসের চাঁদ আর দেখা হলো না। কিন্তু হতাশ হলাম না।

অপেক্ষায় রইলাম, দেখি পত্রিকায় কোন সুখবর আসে কিনা। কিছুক্ষন পর সুখরবটা পেলাম সিলেটের একটি অনলাইন নিউজের মাধ্যমে। খরবটা যাচাই করলাম দেখলাম সঠিক। চট্টগ্রামের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। শুকরিয়া জানালাম আল্লাহর কাছে।
তাড়াতাড়ি হাতের সব কাজ শেষ করে মনে মনে ঠিক কলাম যে, আজ আগে মসজিদে যাব এবং জামাতের সাথে তারাবির ২০ রাকাত নামাজ পড়ব। যেই ভাবা সেই কাজ। আজানের সাথে সাথে মসজিদে গেলাম। আল্লাহর রহমতে সব নামাজ আদায় করলাম।

নামাজ শেষ হওয়ার পর উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্যেশ্যে মুয়াজ্জীন সাহেব একটি ঘোষণা দিলেন, আগামীকাল থেকে ২০ জনের বেশি মুসল্লী মসজিদে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কারণ সরকারী নির্দেশ এবং মসজিদ কমিটির নির্দেশ। বেশি মানুষ একসাথে নামাজ পড়লে করোনা বেড়ে যাবে। তাই কাল থেকে ২০ জন মুসল্লী মসজিদে ঢুকার পর মসজিদের গেইট তালা মারা হবে।

কথাগুলো শুনার পর মনটা ভেঙে গেল এবং একি সাথে চোঁখ দিয়ে জল পড়তে লাগলো। অনেক আশা ছিল গত বছরও মহামারির কারণে খতম তারাবির নামাজ পড়া হয়নি কিন্তু এবছর পড়তে পারবো। কি আর করা সরকারী নির্দেশ অমান্য করলে জেল, জরিমানা, আর গুমতো আছেই।

মনকে শক্ত করলাম আর নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করলাম গার্মেন্টস, ব্যাংকসহ আরো কিছু জরুরী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখলে সমস্যা যদি না হয় তাহলে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায়ে কেন সমস্যা হবে। নাকি করোনা শুধু মসজিদের আশেপাশে ঘুরে বেড়ায় আর মুসল্লীরা আসলেই খেয়ে ফেলবে।

প্রশ্নের উত্তর যদি না হয় তাহলে রহমত, বরকত, আর নাজাতের একটি মাসে জামাতের সাথে তারাবির নামাজ পড়তে কেন এই নিয়ম?

মসজিদে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এধরণের ঘটনা খুবই নজীরবিহীন। বরং সরকারী নির্দেশ মেনে এমনকি টিকা পর্যন্ত নিয়ে অনেক মানুষ মারা গেছেন। কথাগুলো ভিত্তিহীন কিনা আপনারা বিবেচনা করেন?

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো যে, দেশের সরকার প্রধান তাহাজ্জুদ পড়েন। আবার এতো আল্লাহওয়ালা মানুষ আর নেই বলে সরকার দলীয় অনেক নেতা দাবী করেন, সেই দেশে মাত্র ২০ জন মুসল্লী কেন তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে অনুমতি পাবেন।

এটা আর কিছু নয় এটা একমাত্র ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব থাকার কারণে বলে আমি মনে করি।

যাইহোক এটাও একটা ঈমানী পরীক্ষা। আর আমাদের উচিত ধৈর্য্য ধারণ করা। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন তাদেরকে হেদায়ত দান করেন। যাতে করে তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়। আর ইসলাম বিদ্ধেষী মনোভাব থেকে তারা যেন সরে আসে।

লেখক: মাহমুদুর রহমান নাছিম
শিক্ষক ও সংবাদকর্মী।

 

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /১৪ এপ্রিল ২০২১/ এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ