1. [email protected] : Faisal Ahmed : Faisal Ahmed
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
“ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি “
সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন

  • আপডেটের সময় : ফেব্রুয়ারি, ২, ২০২১, ২:০১ পূর্বাহ্ণ
ফেব্রুয়ারি
ছবি-সংগৃহীত

“ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি “

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহীদ আহমদ চৌধুরী :: ফেব্রুয়ারি মাস ভাষার মাস। যে মাতৃভাষার জন্য আমাদের কে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছিল। জীবন ও দিতে হয়েছিল সেই মাস ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আট- ই ফাল্গুন। মাতৃভাষা নিয়ে কবি বলেছেন” রাষ্ট্রভাষা বাংলা আমার “ খোদার সেরা দান” আসলেই আমরা ভাগ্যবান যে আমরা এমন এক ভাষা পেয়েছি যার জন্য আমাদের গর্ব হয়। আমরা গর্ব করতে পারি। তাই হয়ত পাকিস্তানী শাসকেরা সেদিন আমাদের ভাষার কদর বুঝতে পেরে তারা আমাদের ভাষার স্বৃকিতি দিতে চায় নি। তারা তাদের ভাষার দাস করতে চেয়েছিল। পরাধীন করে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল, কেড়ে নিতে চেয়েছিল আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার। খুব সহজে কারো কাছ থেকে নিজের অধিকার আদায় করা যায় না। কখনো কখনো তা আদায় করে নিতে হয়।যেমন সেদিন পাকবাহিনীর বিরোদ্ধে আমাদেরকে মাতৃভাষার দাবীতে বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন করতে হয়েছিল। আর তা হয়েছিল বিশ্বে ভাষার দাবীতে একমাত্র ইতিহাস। যার নজির বিশ্বে আজো বিরল।

পাক বাহিনী তাদের উর্দূ ভাষা বাঙালী জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।যা বাঙ্গালী জাতি মেনে নিতে পারেনি।প্রত্যেক জাতির তার নিজস্ব পরিচয় বা বৈশিষ্ট্য আছে,আছে তার স্বাধীনতা।বাঙ্গালীর স্বাধীনতার মূলে রয়েছে ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন যা আমাদের পটভূমি। বাঙ্গালীদের দাবী ছিল ইংরেজী ও উর্দূ ভাষার পাশাপাশি বাংলাভাষা ব্যাবহার করার অধিকার সংক্রান্ত এক সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করেন পূর্ববাংলা থেকে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দও। তৎকালীন প্রাধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান সাথে সাথে এর তীব্র সমালোচনা করেন। সাথে সাথে খাজা নাজিমুদ্দিন জোর সমর্থন দেয়ায় ধীরেন্দ্রনাথ দওের সংশোধিত প্রস্তাব আর গৃহিত হয়নি। সেই বৈঠকটি হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ২৩ অনুষ্টিত পাকিস্তান গণপরিষদেরর বৈঠকের কার্যবিধিতে।যার কারণে সেদিন সেই প্রস্তাব তারা আর মেনে নেয়নি বরং তাদেরই এমন একটি ছক সাজানো ছিল। যাতে বাঙ্গালীদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে। কিন্ত বাঙ্গালী বীরের জাতি তারা পরাজয় কি তা জানেনা,তাইতো তারা আরো শক্ত হয়ে পরবর্তী করণীয় নিয়ে চিন্তা করতে থাকে। ধীরে ধীরে ভিওি মজবুদ করতে থাকে,ভিতরে ভিতরে নানা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। ২১ শে মার্চ পাকিস্হানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ঘোষনা দেন ‘উর্দূ ই হবে পাকিস্তানের এক মাত্র রাষ্ট্রভাষা। জিন্নাহর এমন ঘোষণায় ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।উপস্হিত ছাত্রদের মধ্যে থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বলা হয়েছিল, ‘ উর্দূ নয় বাংলা হবে রাষ্ট্রভাষা’। এর মধ্য দিয়ে ছাত্র জনতা তাদের সভা- সমাবেশ মিছিল মিটিং দেয়াল লিখন চালিয়ে যেতে থাকে। একে একে সর্বদলীয় ছাত্র আন্দোলন বিশাল আকার ধারন করে।এর মধ্যে ১৯৫০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান সংবিধান সংক্রান্ত এক রিপোর্ট পেশ করেন তাতে উর্দূকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

বাঙ্গালীরা আর বুঝতে বাকি থাকলো না যে উর্দূ ভাষা তাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের দাস বানিয়ে রাখতে চায়। আর সেই মোতাবেক ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ঘোষনা করেন একমাত্র উর্দূই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় নিখিল পাকিস্তান মুসলিম লিগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন এক ঘোষনায় বিস্ময়ে, বেদনায় হতবাক পূর্ব বাংলার আপামর জনগন যা ছিল পুর্ব বাংলার মানুষের কল্পনার অতীত।যার ফলে মাত্র চার দিনের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবাদ ধর্মঘটের আহব্বান করে। এ ধর্মঘট স্বত: ফুর্তভাবে পালিত হয়।

পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি ও আওয়ামী মুসলিম লীগের সহযোগিতায় ঢাকার বার লাইব্রেরিতে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে ও সর্বদলীয় সমাবেশের ব্যবস্থা করা হয়। যে সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন মাওলানা আব্দুর হামিদ খান ভাষানী। এতে প্রায় সব দলের সকল পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।

সেই সভায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে ধর্মঘটের ডাক দেয়,সেই ধর্মঘট সফল হয়েছিল।ঐ দিন বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের উদ্যেগে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী বক্তব্য রাখেন। ২১ ফেব্রুয়ারি সারা প্রদেশে হরতালের ডাক দেয়া হয়।

ছাত্ররা” রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই “লেখা পতাকা নিয়ে ঘুরতে থাকে আর প্রচার করতে থাকে। সাথে বিলি করে পুস্হিকা। ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে অন্যতম’ রাষ্ট্রভাষা ‘ ঘোষনার দাবীতে সর্বাত্বক হরতালের প্রস্তুতি এগুতে থাকে। পাকিস্তান সরকার উপায়ান্ত উওপ্ত জনমতের প্রবল স্রোতের সামনে সন্ত্রন্ত হয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে এক মাসের জন্য ঢাকার ভিতরে সর্বত্র হরতাল, সভা,মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। এ খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পগলে ঢাকার রাজনৈতিক আবহাওয়ায় অন্য এক পরিবর্তন দেখা দেয়।রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সমর্থন করে লেখা সংবাদ প্রকাশ করায় বিভিন্ন পত্রিকা বন্ধ করে সম্পাদককে গ্রেফতার করা হয়।

যথ দিন যেতে থাকে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন তত চাঙ্গা হয়ে ঘনিয়ে আসতে থাকে। ২১ ফেব্রুয়ারি এগিয়ে আসে। ছাত্ররা মেডি ফ্রেরূয়ারী এগিয়ে আসে। ছাত্ররা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তায় আমতলায় জমায়েত হতে থাকে।সেই মজায়েতে ছাত্রদের সাথে অনেক নারী ও অংশ নিয়েছিল। ছিলেন আরো অনেক সাধারন জনতা।সবাই মিছিলে সমবেত হবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।রাস্তায় গিয়ে দাড়াবার সাথেসাথে পাকিস্হানী পেটুয়া পুলিশ বাহীনি তাদের গ্রেফতার করে গাড়িতে তুলে।এভাবে বেশ কিছু মিছিল কারীদের পুলিশ গ্রেফতার কর,তাতে ও আন্দোলন দমাতে পারেনি।উপায়ান্ত না দেখে পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে তাতে ও পিছু হটেনি আন্দোলন করাীরা। পরে নির্মমভাবে গুলি ছুড়ে ছাত্র জনতার উপর,সেই গুলিতে শহিদ হন সালাম, বরকত,রফিক সহ নাম না জানা আর অনেকে। বিশ্বের ইতিহাসে এমনটি আর কোথাও নেই ভাষার জন্য জীবন দেয়া। ভাষা আন্দোলন করা, এটাই এক বিস্ময়কর ইতিহাস যা আজো বিশ্বে খোঁজে পাওয়া যায় না। এক মাত্র ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে বাঙ্গালীরা।
৫২ সালের সেই ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতীর এক সংগ্রামী চেতনা ও ঐক্যর বীজ বপন হয় যা পরবর্তিতে সকল আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপেরনা ও শক্তি যোগিয়েছিল।আর তার হাল ধরেই বাংলাদেশ আজ বহুদুরে এগিয়ে যাচ্ছে।এগিয়ে যেতে হবে আর বহুদুর। তবেই আমাদের ভাষা শহিদদের আত্নত্যাগ স্বার্থক হবে।
লেখক: কলামিষ্ট/ সাংবাদিক

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১/ এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ