1. [email protected] : Faisal Ahmed : Faisal Ahmed
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
অনামিকার সম্পর্ক নিয়ে ব্যর্থতার গল্প
মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৪:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

  • আপডেটের সময় : ফেব্রুয়ারি, ২, ২০২১, ২:৩২ পূর্বাহ্ণ
অনামিকার সম্পর্ক নিয়ে ব্যর্থতার গল্প
সৌজন্য ছবি- বাংলার বারুদ

অনামিকার সম্পর্ক নিয়ে ব্যর্থতার গল্প

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাবর হোসেন :: পুলিশের গুড লিষ্টে তালিকাভূক্ত, সেই সাথে অনুগত এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সুর বাজাতে পারেন এমন চরিত্রের অধিকাংশ অধিকারী সাংবাদিকের অফিসারদের সাথে পৃথক তিন দফায় মতবিনিময় সহ মধ্যাহ্ন ভোজ করলেন পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ। অবশ্য তিনি একা ছিলেন না, ডানে-বায়ে উজির-নাজির কতোওয়ালরাও ছিলেন সহায়তাগীর হিসেবে। ধারণা পাওয়া গেলো তথাকথিত প্রেসক্লাব যাকে ‘প্রেসার ক্লাবও’ বলা যায়, সেই সবের আওতাভুক্ত হবার আমল-খাসলত এবং এক ধরনের অনুগত ও বাধ্য প্রাণীর ন্যায় যারা সাংবাদিকতা করতে অভ্যস্থ নয় তাদেরকে সিভিল কিংবা পোষাকধারী প্রশাসনের গুড-বুক অথবা আমন্ত্রণপত্রের তালিকার খাতার লিষ্টে রাখা হয় না। সিলেটের সাংবাদিকরা কুট নীতিকের ভাষা বুঝতে পারেনি।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড: এ কে এম আব্দুল মোমেন রায়হানের বাড়ীতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথার বলার সময় পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া প্রসঙ্গে বলেছিলেন “তিনি বেশ কিছু দিন হয়ে গেছে সিলেটে আছেন এবং এখানকার অনেক রাস্তাঘাট তাঁর চেনা জানা হয়ে গেছে”। আমি তখনই আঁচ করতে পেরেছিলাম গোলাম কিবরিয়ার বিদায় ঘণ্টা বেজে যাচ্ছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পদসহ আরো কয়েক পদে রদ বদলের নেপথ্যের বেশ কয়েকটি কারনের মধ্যে অন্যতম দুটি হচ্ছে এম সি কলেজ ছাত্রাবাস চত্বরে আঁখি আরেফিন গণ ধর্ষন এবং পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু। অনেক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সংবাদ কর্মীরা রায়হানের মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকান্ড হিসেবে আখ্যায়ীত করছেন, এটা কিন্তু পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের পর্যায়ে পড়েনা। কারন এখন পর্যন্ত রায়হানের প্রকৃত পেশা’র বিষয়টি দাপ্তরিক ভাবে অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। পি বি আই’র কর্মকর্তারা ‘কাষ্টরি’ থেকেই চিন্তা-চেতনায় রয়েছেন মর্মে আভাষ পাওয়াও গেছে।

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নবাগত বর্তমান কমিশনার নিশারুল আরিফ এখানে এসে যোগদান করেছেন অনেকটাই উত্তপ্ত সময়ে। হয়তো মানষিক ইচ্ছা থাকা সত্বেও যোগদান পরবর্তী কাছাকাছি সময়ে মিডিয়াওয়ালাদের সাথে মোলাকাত করার সুযোগ সময়ের অভাবে করতে পারেন নি। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে মোলাকাত করেছেন কয়েক দফায়। আমি একটু স্বস্থি বোধ করেছি পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফের একটি সিদ্ধান্তের ব্যাপারে। ৬ থানার ওসি পদে নবাগত ৬জন ইন্সপেক্টরকে পদায়ন করার সময় নাকী আওয়ামী দুষ্টচক্রের কারো কোনো মতামত নেয়ার প্রয়োজন হয়নি।

পুলিশের পোষ্টিং নিয়ে যারা বাণিজ্য করার চিন্তা-চেতনা মাথায় রাখেন তারা নাকী ঢাকায় বসে বিষয়টি নিয়ে বেশ জল্পনা-কল্পনাও করেছেন। বাপের বাড়ী কুমিল্লায় এমন সিলেটি গৃহবধুদের দু একজন নাকী স্বামীর ক্ষমতা এবং প্রতিপত্তির ক্ষয়-ক্ষতি নিয়েও ঢাকায় বসে মাথা ঘামানোর পথ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। আমি একবার এই বাংলার বারুদেই একটি সংবাদের শিরোনাম দিয়েছিলাম ‘ইস্তারী খাইয়া পেরেশান’ ওয়ান ইলেভেনো’র সামরিক শাসনের সময় সিলেটের কয়েক সাংবাদিকদের ধরে নিয়ে র‌্যাব,র অফিসে কি অমানবিক আচরন ও নির্যাতনের পরবর্তী সময়েও দেখা গেলো বেহায়া মার্কা ও মেরুদন্ডহীন কয়েক ‘উঠরা বৈতল’ জাতীয় লোক রমজান মাসে র‌্যাব,র অফিসে গিয়ে ইফতার করছে হাসি মুখে। সেই হাসি মাখা মুখগুলোর ছবি সহ প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ইস্তারী খাইয়া পেরেশান’ ‘নারীদেহ বান্ধব ডায়ানমিক’ পুলিশ অফিসার মিজানুর রহমান শেখ এস এম পি’র কমিশনার থাকাকালে দৈনিক একাত্তরের কথা’র বর্তমান সম্পাদক চৌধুরী মুমতাজ ও তার এক বন্ধু আমিন উননুর, তানিয়া ইয়াছমিন মনি নামের এক নারী সহ ডি এন এ টেষ্টের উপযোগী অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ-জনতার হাতে আটক হয়ে জেল হাজতে যেতে হয়েছিলো।

 

কনকচাঁপার সুগন্ধ নিয়ে সেই নারী খেকোঁ মিজান যখন এস এম পি’র কমিশনার থেকে সিলেট রেঞ্জের ডি আই জি হয়েছিলেন তখন এই সিলেটেরই কিছু আদর্শবান ও চেতনাধারী সাংবাদিকের অফিসার’রা তাদের আরো কিছু চেলা-চামুন্ডা নিয়ে ডি আই জি মিজানের আমন্ত্রনে নৌ বিহারসহ জলাশয় ভোজনে গিয়েছিলেন সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে। তখন তাহিরপুর থানার ওসি ছিলেন ইন্সপেক্টর নন্দন কান্তী, শুনেছি ডি আই জি মিজান জেল হাজতে যাবার পর সেই ওসি নন্দনও দুদকের বেডলিষ্টে পড়ে গেছেন, তিনি আবার আমাদের এক সিনিয়র সাংবাদিক নেতার আত্মীয় হন। সে সময় বারুদের একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছিলাম ‘বেহায়া ছাগলে চাটে বাঘের গাল’ ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর মুজিবুর রহমান ডালিম সম্পাদিত দৈনিক সিলেটর দিনরাত পত্রিকায় ছবি দেখলাম, ইমজার সাথে মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ।

সংবাদটি’র শিরোনাম ছিলো ‘শীঘ্রই সিলেট’র সকল ফাঁড়ি ইনিচার্জের বদলী’ (বানান ভুলছিলো) শিরোনামে বুঝা গেলো ইমজার সাংবাদিকরা মনে হয় পুলিশ কমিশনারের কাছে দাবী করেছিলেন, সকল ফাঁড়ীর ইনচার্জদের বদলীর ব্যাপারে, তাই হয়তো কমিশনার তাদেরকে খুশি করার জন্য এমন ঘোষনা দিয়েছেন। আমার ধারনা কিংবা অনুমান সঠিক নাও হতে পারে, কারন পুলিশ কমিশনার তিন দফায় যাদের সাথে মত বিনিময় করেছেন তাদের কারো সাথে আমি নিজেকে তুলনা করার মত কিছুই নেই আমার। দৈনিক সিলেটর দিনরাত পত্রিকার উক্ত সংবাদের ভেতরেই চোখে পড়লো পুলিশের সাথে নাকী সাংবাদিকদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং তা দুর করার জন্য একজন নির্দিষ্ট অফিসার সাংবাদিকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করবেন, যা পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ জানিয়েছেন বলে সংবাদটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের সাথে সাংবাদিকদের দুরত্ব সৃষ্টি জনিত কেনো কিছুই আমার জানা ছিলো না। কারন জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিমের জানাযার নামাজ ও দাফনে এস এম পি’র মিডিয়া অফিসার বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহেরকে উপস্থিত থাকতে দেখেছি। মিডিয়া সেলের সফি ও ছিলেন তাঁর সাথে। তাই সিলেট প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য দৈনিক সংগ্রামের কবির আহমদ, জেলা প্রেস ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি তাপস দাস পুরকায়স্থ এবং ইমজার সদস্য বাংলা টিভি’র আব্দুল কাইয়ুম বাহাপুরীর সাথে আলাপ করে জানতে চেষ্টা করলাম পুলিশের সাথে সাংবাদিকদের দুরত্ব বিষয়ক জটিলতার আসল রহস্য, কিন্তু তেমন কিছুই পেলাম না এ তিন জনের কাছ থেকে। এরা তিনজনই পুলিশের মধ্যাহ্নভোজে গিয়েছিলেন। আমি কোনো দিনই পুলিশ কিংবা সিভিল প্রশাসনের কাউকে অকারনে বিরক্ত করার পক্ষ পাতি নই। এস এম পি গঠন হবার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো পুলিশ কমিশনার আমাকে সরাসরি দেখেছেন কিংবা অকারনে পুলিশের কোনো কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে অথবা অন্য কোনো ভাবে বিরক্ত করার নজীর নেই কারো কাছে।

সিলেট রেঞ্জের সাবেক ডি আই জি কামরুল আহসান এস এম পি’র কমিশনার থাকাকালে একদিন বাধ্য হয়ে ফোন করেছিলাম। দক্ষিন সুরমা থানার তৎকালীন ওসি ইন্সপেক্টর মুরছালিন একটি ডাকাতি মামলায় ‘সাপ্রেস’ করেছিলেন। ডাকাতরা গৃহকর্তার কান কেঁটে নিয়েছিলো অথচ সেই মামলা সঙ্গোপনে গৃহে প্রবেশ সহ চুরির ধারায় (৪৫৭/৩৮০) রেকর্ডের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে কু-উত্তর দিয়েছিলেন, আমি বিষয়টি অবগত করার জন্য পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছিলাম, কারন পুলিশ সদর দপ্তরে বলার পর যাতে কমিশনার বলতে না পারেন তিনি জানেন না। পরের দিন সকালেই খবর পেয়েছিলাম মুরছালিনকে ডিবিতে পোষ্টিং দেয়া হয়েছিলো। তিনি সেই ইন্সপেক্টর মুরছালিন, যিনি সাংবাদিক চৌধুরী মুমতাজের নারী ধর্ষন মামলার ভিকটিম তানিয়া ইয়াছমিন মনি’র যোগানদাতা কিংবা পূর্ব পরিচিত ছিলেন। নবাগত পুলিশ কমিশনারের মত বিনিময় এবং মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ গ্রহন কারী সেই তিনজন সহ সিলেট প্রেস ক্লাবের হয়ে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ গ্রহন কারী দৈনিক সংবাদের বিশেষ প্রতিনিধি আকাশ চৌধুরীর সাথে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেও যখন আসল রহস্য খুঁজে পেলাম না তাদের তরফ থেকে, তখনই মনে হলো গ্রীল ছাড়া সি এন জি অটো রিকসার বিরুদ্ধে ১ জানুয়ারী থেকে অভিযান চালাতে না পারার পুলিশী ব্যর্থতার কথা।

আমার জানা মতে এস এম পি’র বর্তমান কমিশনার নিশারুল আরিফ অতীতে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। ফখরুল ইসলাম মল্লিক নামে একজন এসপি ছিলেন তখন, হিসেবমতে বেশী দিনের কথা নয় ১৬ বছর ধরে নিলে গত ১২ বছর যাবত আওয়ামীলীগ ক্ষমতাশীন রয়েছে। সিলেটের সাংবাদিকদের আমল-খাসলত সহ অনেক কিছুই পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফের জানা থাকার কথা। এখানের অনেক পত্রিকার মালিক ভূয়া প্রত্যায়ন পত্রের বদৌলতে সম্পাদক, প্রকাশক, অনেক পত্রিকার মালিক সম্পাদক যুগশ্রেষ্ঠ জালিয়াত এবং প্রতারক, ভূমি দস্যুতা ও টিলা কাঠার মধ্যসত্বভোগী ঠিকাদার অনেক সাংবাদিক। রেজিষ্টেশনবিহীন সিএনজি অটো রিক্সার টোকেন ব্যবসাও আছে কয়েকজনের, অনেক পত্রিকার মালিক সম্পাদকরা ভূমি দখল করে কিংবা ঝামেলাযুক্ত ভূমি ক্রয় করে সেখানে পত্রিকার সাইনবোর্ড লাগিয়ে রাখেন। অনেকে আবার টেলি ফিল্ম অথবা সিলেটি ভাষার নাটকের নামে বহিরাগত মেয়ে লোকের ফার্ম’র মালিক। পুলিশ কমিশনার এবং মতবিনিময়কারী তালিকাভূক্ত সাংবাদিকরা ১ জানুয়ারী থেকে গ্রীল বিহীন সিএনজি অটো রিকসার বিরুদ্ধে অভিযান করা না করা নিয়ে কোনো আলোচনা করেছেন বলে জানা বা শোনা যায়নি।

আমার ৩৬ বছরের সাংবাদিকতায় বহু বার উল্লেখ করেছি যে, কোনো রাজনৈতিক দলের ফান্ড থেকে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের বেতন ভাতা দেয়া হয়না, সেকারনে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার মর্জি মাফিক পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কার্যক্রম চলতে পারে না। পরিবহন ধর্মঘটের হুমকির কাছে নতি স্বীকার করেছেন পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ। সিএনজি, অটোরিকসায় গ্রীল লাগানোর বিষয়টি কার্যকর না হওয়ার অর্থ এই দাঁড়ায়, শ্রমিকরা যাই বলে, তাই হয়। এখানে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এবং মোটরযান আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানো হচ্ছে। মত বিনিময় এবং মধ্যাহ্নভোজের উছিলায় বিষয়টি নিয়ে মিডিয়া যাতে সোচ্ছার না হয় এবং মোটরযান আইন অনুযায়ী সিএনজি অটো রিকসায় চালকসহ মোট ৪ জনের স্থলে ৬ জন যাত্রী পরিহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান কিংবা মামলা দেয়া না দেয়ার বিষয়টি মিডিয়ায় জোরালো ভাবে না আসে সেই চিন্তা- চেতনাটি কাজ করেছে বলেই মনে হচ্ছে।

ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে গ্রীল লাগালো না, দুইজন অতিরিক্ত যাত্রীবহনের অপরাধে মামলা দিতে আপত্তি কোথায় ? এমন প্রশ্নটি তো কোনো সাংবাদিক করলো না পুলিশ কমিশনার কিংবা ট্রাফিকের ডিসি,র কাছে। শুনেছি মাদক নিয়ে কথা উঠেছে, গত অক্টোবর মাসে আধাসামরিক বাহিনী ১৯৯ পিস ইয়াবা সহ একজনকে ধরে দক্ষিণ সুরমা থানায় সোপর্দ করেছিলো। পরিবহন ধর্মঘটের হুমকিকে উছিলা করে থানাওয়ালারা সি আর পি সি’র দোহাই দিয়ে যে পদ্ধতিতে ইয়াবা সহ আটক ব্যক্তিকে জিম্মানামা নামক অজুহাতে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছেন, সে ব্যাপারেও সাংবাদিকের অফিসার’রা কোনো কথা বললেন না।

পুলিশ কমিশনার সহ উজির-নাজির কোতোওয়ালরাও হয়তো ভাবলেন ‘ভালোই হয়েছে’। পাথর কোয়াড়ী থেকে পাথর উত্তোলন সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে তিনদিন যাত্রীবাহী গণপরিবহন ধর্মঘট দিয়ে মানুষকে জিম্মি করে রাখা হলো, অথচ ১৫ শত থেকে ১৭ শত শ্রমিকের বিরুদ্ধে একটি পুলিশ এ্যাশল্ট মামলা দক্ষিণ সুরমা থানায় বিদ্ধমান। (মামলা নং ২ (৬)২০) তদুপরি পুলিশের কোনো ভূমিকা লক্ষ্য করা গেলো না সেই তিনদিন। মামলার বাদী পুলিশের একজন সাব ইন্সপেক্টর। সেই পুলিশ এ্যাশল্ট মামলার এজাহারে এনা পরিবহন কাউন্টারের ক্ষতিপূরণ উল্লেখ রয়েছে ১ লাখ টাকা।

এনা পরিবহনের কাউন্টার কি পুলিশের সম্পদ কিংবা মামলার আসামীরা তিনদিন মানুষকে জিম্মি করে রাখলো অথচ পুলিশ কমিশনারের সাথে মত বিনিময়কারী সাংবাদিকরা উক্ত বিষয়টি নিয়েও কোনো প্রকার মত বিনিময় করলেন না। আর করবেনই বা কিভাবে, অনেক সাংবাদিক এবং পত্রিকার মালিক-সম্পাদকরাতো এখন পাথর কোয়াড়ী ব্যবসার সাথেও জড়িত। কোয়াড়ী থেকে যদি পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে বলে দাবী করা হয়, তাহলে রাতের বেলা কিংবা ভোররাতে পাথর ভর্তি ট্রাকগুলো কিভাবে শ্রীরামপুর বাইপাস দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। পাথর পরিবহনের সাথে ট্রাক গাড়ীর সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু দেখা গেলো যাত্রীবাহী আন্ত:জেলা গনপরিবহন সহ সকল ধরনের যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করে রাখার নেপথ্যে কি ছিলো?

সে বিষয়টি নিয়েও পুলিশ কমিশনার ও সাংবাদিকদের মধ্যকার মতবিনিময় এবং মধ্যহ্নভোজ সভায় আলোচনা হতে পারতো কিন্তু তা হয়নি। বেসরকারী পরিবহন ধর্মঘটের সময় বিআরটিসি,র বাসও তেমন একটা চলাচল করতে দেয়া যায়নি। কারন বিআরটিসি’র বাসগুলোও এখন নাকী সরকারী ব্যবস্থাপনায় চলে না। সে গুলোও এখন ইজারা ভিত্তিক ভাবে বেসরকারী লোকজন দিয়ে চালানো হয়। যে কারনে বি আর টি সি’র বাস গুলোর চালক-হেলপার ও সুপার ভাইজারদের গায়ে নির্দিষ্ট সরকারী পোষাক দেখতে পাওয়া যায় না। উক্ত বিষয়টি নিয়েও পুলিশ-সাংবাদিক মধ্যকার বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। তৎকালীন জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস দাস পুরকায়স্থ এবং ইমজার সদস্য বাংলা টিভি’র আব্দুল কাইয়ুম বাহাপুরীর বয়ান থেকে জানা গেলো, মৌলিক কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেমন এস এম পি’র নিজস্ব ভবন, ৪টি থানার নিজস্ব ভবন এবং পুলিশ হাসপাতালের আধুনিকরণ প্রসঙ্গে। সে সময় নাকী পুলিশ কমিশনারের ডানে-বায়ে থাকা উজির-নাজিরগন অন্য মনষ্ক ভাব ধারন করেছিলেন।

পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ নাকী আহবান জানিয়েছেন, তথাকথিত তালিকাধারী সাংবাদিকরা অপরাধের সংবাদ তাঁকে দিবেন এবং সেই সংবাদ অনুযায়ী তিনি ব্যবস্থা নিবেন। দিলেন তো চাঁদাবাজীকে আরেক ধাপ এগিয়ে, শাহপরান (র:) থানার আওতাধীন আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টার পাশবর্তী কোন এক স্থানে প্রতিদিন রাতে টিলাকাঁটা হয় এবং ট্রাক দিয়ে মাটি অন্যত্র নেয়া হয়। উক্ত বিষয়টি নাকী কমপক্ষে ২৫/৩০ জন সাংবাদিকসহ লেনদেনে জড়িত। এরা কি সহজে এই খবর পুলিশ কমিশনারকে বলবে, যখনই টিলা কর্তন কারীদের সাথে লেনদেন নিয়ে সমস্যা হবে তখন বলতে পারে। পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ হয়তো জানেন না, এখানকার সাংবাদিকরা লিখে কম, সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ করে কম, মুখে অভিযোগ করে বেশী, অর্থাৎ মাউথ সাংবাদিকতা। জুয়ার আসরে যাবে চাঁদার জন্য, না পেলে পুলিশকে বলবে অমুক স্থানে জুয়া হচ্ছে। হোটেলে পতিতার কাছে যাবে, ব্যবহার করবে, দালাল কিংবা মেয়েটি যখন তার পাওনা চাইবে তখনই পুলিশকে বলবে, অমুক স্থানে দেহ ব্যবসা হচ্ছে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, তালতলায় একটি দেশীয় মদের দোকান রয়েছে নাম ‘রয়েল কর্ণার’ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের লাইসেন্স ধারী ব্যতিত কারো কাছে সেই দোকান থেকে মদ বিক্রি করার নিয়ম নেই।

পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ পর্যবেক্ষন করে দেখতে পারেন কতজন লাইসেন্স ধারীর কাছে সেই দোকান থেকে কি পরিমান মদ বিক্রি করা হচ্ছে। তিন দফায় মতবিনিময় এবং মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ গ্রহনকারী সাংবাদিকদের কাউকে দিয়ে কি এ ব্যাপারে রিপোর্ট করাতে পারবেন? কাষ্টঘর মদের পাট্টা থেকেও অনুরূপ ভাবে লাইসেন্স বিহীন ব্যক্তিদের কাছে ১৫/২০ লিটার করে মদ বিক্রি করা হয়। পুলিশ কমিশনার অফিসে আমন্ত্রিত এবং মধ্যাহ্ন ভোজনকারী, অনেক কে অনুরোধ করেও একটি রিপোর্ট করাতে পারবেন বলে মনে হয়না। নতুন পুলিশ কমিশনার কিংবা থানা-ফাঁড়ীর নতুন ইনচার্জ দায়ীত্ব নিলেই অনেক ধান্ধাবাজ সাংবাদিক বিভিন্ন বিষয়ে মোবাইলে অভিযোগ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য নয়, নিজের চাঁদার পরিমান বৃদ্ধির জন্য। সে ক্ষেত্রে যদি অভিযোগকারী সাংবাদিককে বলতে পারেন, বিষয়টি নিয়ে একটি রিপোর্ট করুন আপনার মিডিয়ায়, দেখবেন তখন সেই সাংবাদিকের মুখ দিয়ে কথা বের হতে কষ্ট হচ্ছে।

ইমজার সদস্যদের সাথে মত বিনিময় কালে নাকী কথা উঠেছে পুলিশ-সাংবাদিকের দুরত্বের বিষয়টি। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন (মরহুম) মন্ত্রী থাকাকালে একবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পুলিশ থেকে দুরত্ব বজায় রেখে দায়ীত্ব পালন করার জন্য। তখন লিখেছিলাম “আমি দুরে চলে গেলে তুমি কেমন সুখে থাকবে” এখানে দুরত্ব বলতে কিছু নেই। পুলিশের মিডিয়া অফিসার সব সময় সাংবাদিকদের সাথে মোবাইলে ব্যস্থ থাকতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তথ্য প্রদানেরও একটি সীমা রেখা রয়েছে বলে আমি মনে করি। মিডিয়া অফিসারের বক্তব্য না পেলে সংবাদ প্রচার করা যাবেনা এমন কোনো বাধ্যবাদকতা রয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবে মিডিয়া অফিসার সাংবাদিককে যে বক্তব্য দিবেন তা পুরো এস এম পি’র বক্তব্য হিসেবে গন্য করা হলে মিডিয়া অফিসারকে অবশ্যই চিন্তা-ভাবনা করে কথা বলতে হবে।

যতটুকু জানা গেছে এস এম পি’র বিভিন্ন ইউনিটে বিশেষ করে থানা ও ফাঁড়ী গুলোতে এমন অফিসারদের ইনচার্জ হিসেবে পোষ্টিং করা হচ্ছে যারা এর আগে কখনো এখানে ছিলেন না। শুদ্ধি অভিযান মুলক এমন রদবদলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিলো এস এম পি’তে। সরকারী দলের নেতাদের আজ্ঞাবহ এবং সাবেক ছাত্রলীগ মনোভাবধারী বেপরোয়া মনোভাব সম্পন্ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় কিছুটা পরিবর্তন না হলে রাষ্ট্রের পুলিশ দলীয় পুলিশে পরিনত হয়ে গেলে সাধারন মানুষ আইনী সহায়তা পেতে অনেক ভোগান্তি পেতে হয় এই সিলেট নগরীতে।

বিষয়টি বর্তমান পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফকেও চিন্তা-চেতনায় রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। সেই সাথে নতুন কমিশনার কতৃক সরাসরি পোষ্টিং প্রাপ্তরা যাতে চেইন অব কমান্ড জনিত বিষয়টির ব্যাপারে উধাসীন কিংবা বেপরোয়া মনোভাব পোষন না করেন সে দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে নগর পুলিশের শীর্ষ কর্তাকে।

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১/ এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ