1. [email protected] : Faisal Ahmed : Faisal Ahmed
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
৬৩ বছর বয়সেও ক্যামেরা নিয়ে ছুটে চলেছেন আতাউর রহমান আতা
শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ১১:০২ অপরাহ্ন

  • আপডেটের সময় : জানুয়ারি, ৫, ২০২১, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
৬৩ বছর বয়সেও ক্যামেরা নিয়ে ছুটে চলেছেন আতাউর রহমান আতা
ক্যামেরা হাতে ফটো সাংবাদিক আতাউর রহমান আতা। ছবি- রেজওয়ান আহমদ

৬৩ বছর বয়সেও ক্যামেরা নিয়ে ছুটে চলেছেন আতাউর রহমান আতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রেজওয়ান আহমদ :: ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে আজও ক্যামেরা নিয়ে ছুটে চলেছেন আতাউর রহমান আতা। দেশ,সমাজ ও মানুষের সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে ক্যামেরা হাতে তুলে নিয়ে ছিলেন আতাউর রহমান আতা। শেষ বয়সে এসেও তা ধরে রেখে দেশ,সমাজ, এবং মানুষের জন্য ছবি তুলে সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

দেশ,সমাজ ও মানুষের উন্নয়নে কাজ করে গেলেও নিজের জন্য কিছু করতে পারেন নি তিনি। সততা কে লালন করে কাক ডাকা ভোরে ক্যামেরা নিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়েন আতাউর রহমান আতা। সারাদিন শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ছবি তুলে তা পত্রিকার মাধ্যমে প্রকাশ করে দেশ,সমাজ ও মানুষের সেবা করে ছুটে চলেছেন তিনি। দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে কাজ করে গেলেও ক্লান্তি নেই মনে। ক্যামেরা নিয়ে ছুটে চলেন সমাজের অবহেলিত মানুষের কাছে।

স্বাধীনতাত্তোর সিলেটে প্রথম ফটো সাংবাদিকতা শুরু করেন আতাউর রহমান আতা। সিলেটের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ও জাতীয় পত্রিকা আতাউর রহমান আতার কাছ থেকে ছবি নিয়ে তা পত্রিকায় প্রকাশ করতেন। একা ফটো সাংবাদিকতা শুরু করলেও পরে তিনি নিজ হাত দিয়ে তৈরী করতে থাকেন আরাে ফটো সাংবাদিক। যার হাত ধরে বর্তমানে সিলেটে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ফটো সাংবাদিক। ফটো সাংবাদিকদের একসাথে রাখতে তিনি গড়ে তুলেছেন ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন।

আতাউর রহমান আতা একজন সাদা মনের মানুষ। যার নেই কোনাে অহংকার। যে কেউ তার সাথে মিশতে পারে। বড়-ছোট সবার সাথে তিনি হাসি দিয়ে কথা বলেন। যার সাথে না মিশলে বুঝা যাবে না তিনি কত বড় মনের মানুষ। সহজ-সরল কাকে বলে। ফটো সাংবাদিকরা কেউ বিপদে পড়লে সবার আগে ছুটে যান আতাউর রহমান আতা। নিজের জবনের চেয়ে যেনাে অন্যের জীবনকে ভালােবাসেন তিনি।

যার কারণে কারাে বিপদের কথা শুনলে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। পাশে থেকে নিরবে সহযােগিতা করে যান। ৪৭ বছরের পথ চলায় অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ছুটে চলেছেন নিজের গতিতে। পিছনে থাকানোর সময় নেই। যতদিন বেঁচে থাকবেন ততো দিন ক্যামেরা নিয়ে ছবি তুলে দেশ-সমাজ ও মানুষের কথা বলে যাবেন এটাই যেনাে তার অঙ্গীকার। দেশ-সমাজ ও মানুষের জন্য সততার সাথে কাজ করার কারণে বিভিন্ন সম্মাননা পুরস্কার পান তিনি।

ক্যামেরা হাতে

উল্লেখযােগ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (১৯৫০), জাতীয় আলােকচিত্রী প্রতিযােগিতা (১৯৯৩), নান্দনীক সম্মান পদক (১৯৯৭), রােটারী ক্লাব অব সিলেট সেন্টাল এ্যাওয়ার্ড (১৯৯৭), শেখড়ের সন্ধানে এযাওয়ার্ড (১৯৯৭), লায়গ ক্লাব অব সিলেট কুশিয়ারা এ্যাওয়ার্ত (১৯৯৮-৯৯), উর্বশী আবৃত্তি পদক (১৯৯৮), তারুণ্য মেলা এ্যাওয়ার্ড (১৯৯৯), এসােসিয়েশনফর ইয়ুথ এডভান্সমেন্ট এ্যাওয়ার্ড (২০০০), বাংলাদেশ ফটো আার্নালিস্ট এসােসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটি পদক এ্যাওয়ার্ড (২০০৩), সফল সংগঠক পদক (২০০৯), সুরমা বয়েজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ২০১৬ সালে ফটো সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য সংবর্ধনা পান তিনি। রােটারী ক্লাব অব মেট্রোপলিটন এস্কেলেন্সি এ্যাওয়ার্ড ২০১৯, জেলা শিল্পকলা একাডেমী এ্যাওয়ার্ড ২০১৬।

আতাউর রহমান আতার জন্ম ৫ জুন ১৯৫৭ সালে সিলেট নগরীর মেন্দিবাগ এলাকায় এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জনুগ্রহণ করেন। দেখতে দেখতে বয়স বাড়লেও মনের জোড় এখনাে ছােট বেলার মতাে রয়ে গেছে। ৬৩ বছর বয়সেও ক্যামেরা নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সিলেট বিভাগ। যেখানেই দুর্ঘটনা ঘটছে, সেখানেই ছুটে চলেছেন ক্যামেরা নিয়ে।

মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে সিলেটের ইতিহাসের যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা, আনন্দ-বেদনা এসবের ছবি তুলে
স্বাক্ষী হয়ে আছেন আতাউর রহমান আতা। যার কাছে গেলে সিলেটের ইতিহাসের কথা শুনতে পাবেন ও ছবি দেখতে পারবেন। নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় সুমি স্টুভিও নামে একটি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান আছে। এই স্টুডিও থেকে এক সময় সিলেটের সাপ্তাহিক ও দৈনিক পত্রিকায় ছবি সরবরাহ করা হতাে। সেইসব ছবি পরের দিন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করা হতো।

আতাউর রহমান আতা ১৯৭৩ সালে সিলেটের বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় পালের হাত ধরে ফটো সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও দৈনিক পত্রিকায় আলােকচিত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।

যার মধ্যে রয়েছে- সাপ্তাহিক দেশবার্তা, দৈনিক সিলেটের ডাক, দৈনিক খবর, চিত্র বাংলা, ছায়াছন্দ, ইক্তেফাক, বাংলার বার্ণী, ইনকিলাব, জনতা, আজাদ উল্লেখযােগ্য। বর্তমানে তিনি দৈনিক সিলেট বাণীর সাথে জড়িত আছেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, সাবেক প্রসিডেন্ট
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ বহু খ্যাতিনামা ব্যক্তিত্ব ছবি আতা ভাইয়ের ক্যামেরায় ধারণ করেছেন। ১৯৯৫ সালে শেখ হাসিনা হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে জিয়ারতকালে আতা ভাই প্রার্থনারত অবস্থায় একটি অসাধারণ ছবি তুলেছেন। জাতীয় নেতৃবৃন্দের কাছে ছবিটি বেশ সমাদৃত হয়। পরবর্তীতে অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থনারত সেই ছবিটি প্রচারণার পােস্টারে ব্যবহৃত হয় এবং এখনাে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। পরে ছবি দেখে মুগ্ধ স্বয়ং প্রথানমন্ত্রী আলােকচিত্রী আতাউর রহমান আতাকে দেখার অগ্রহ প্রকাশ করেন। সিলেটের রাজনৈতিক নেত্রবৃন্দের কল্যাণে একদিন সেই শুভক্ষণটিও
এসে যায়। আতা ভাই নিজ হাতে সেই ছবিটি শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন এবং প্রশংসা অর্জন করেন। শুধু শেখ হাসিনা নয় কর্মজীবনে আতা ভাই এমন অনেক দুর্লভ ছবি তুলেছেন যে ছবিগুলাে মানুষ এবং সমাজের কথা বলেছে। নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রের বিবেক কে।

আতাউর রহমান আতা ভাই এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান যতদিন বেচে থাকবে ততদিন দেশ সমাজের ও অবহেলিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করে জেতে চাই। ফটো সাংবাদিকতায় যারা এই মহৎ পেশায় জড়িত হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেলে একদিন অবশ্যই মূল্যায়ন পাওয়া যাবে। নতুনরা যেন এমন কোনাে ছবি তুলে প্রকাশ না করে যাতে দেশ, সমাজ ও মানুষের ক্ষতি হয়। সত্য ঘটনা ছবির মাধ্যমে পরিকায় প্রকাশ করে মানুষের মাঝে তুলে ধরতে নতুনদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /০৫ জানুয়ারি ২০২১/ এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ