1. [email protected] : Faisal Ahmed : Faisal Ahmed
  2. [email protected] : Developer :
  3. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
পিঠা দোকানের পুঁজি নেই হবিগঞ্জের রহিমার
শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ১১:২১ অপরাহ্ন

  • আপডেটের সময় : ডিসেম্বর, ৩০, ২০২০, ১:২০ অপরাহ্ণ
পিঠা দোকানের পুঁজি নেই হবিগঞ্জের রহিমার
ছবি-সংগৃহীত

পিঠা দোকানের পুঁজি নেই হবিগঞ্জের রহিমার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: বিকেল হতেই চুলা আর পিঠা বানানোর নানান উপকরণ নিয়ে রেলওয়ে জংশনের পার্কিং এলাকায় হাজির হন রহিমা আক্তার (৪৫)।

এরপর চুলা ঠিক করা আর সব কিছু নিয়ে দোকান বসাতে বসাতে কিছুটা সময় চলে যায়। একসময় জ্বলে ওঠে তার চুলাটি। একের পর এক গরম পিঠা তৈরি হতে থাকে। আর সেই পিঠা খেয়ে তৃপ্তির ঢ়েকুর তোলেন পিঠাপ্রেমীরা।

পিঠা খেয়ে সকলের মন ভরে গেলেও কঠিন হাতে পিঠা তোলা নারী রহিমার আক্তারের মন ভালো নেই। পিঠার দোকান বড় করার পুঁজি নেই। নেই সংসার চালানোর ভালো ব‌্যবস্থা। খেয়ে পরে কোনো রকম দিন গেলেও ছোট সন্তানের লেখাপড়া চালানোর ক্ষমতা নেই তার। এই নিয়ে হতাশা আর দীর্ঘশ্বাস দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে তার।

রহিমা আক্তার হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা। প্রায় বছর সাতেক আগে তিনি স্বামীকে হারিয়েছেন। এরপর ৭ সন্তানকে নিয়ে রহিমা আক্তারের জীবন যুদ্ধ শুরু হয়। লেখাপড়া না জানা রহিমা পেটের দায়ে মানুষের বাসায় কাজ করতে লাগলেন। খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের বড় করেছেন। এখন আর তার শরীরে আগের মতো সেই শক্তি নেই। কিন্তু সংসারে এতো সদস‌্য। তাদের পেট তো আর থেমে থাকে না। তাই সংসারের হাল ধরতে ধার দেনা করে স্বল্প পুঁজি দিয়ে আবারও পিঠার দোকান দেন রহিমা আক্তার। এর কিছু দিন পর তিনি ডিম বিক্রিও শুরু করেন। এতে কোনো রকমে দিন চললেও সন্তানের লেখাপড়া করাতে পারছেন না তিনি।

রহিমা আক্তার বলেন, ‘অভাব মেটাতে স্বল্প পুঁজি দিয়ে পিঠার দোকান দিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিস্কারভাবে চিতই পিঠা তৈরি করে বিক্রি করি প্রতিদিন। পিঠার সঙ্গে দেই সরিষা ও সিদলের ভর্তা। এছাড়া ডিম সিদ্ধও বিক্রি করি। লোকজন পিঠা খেয়ে খুব মজা পায়। এটা দেখে আমার মনে আনন্দ হয়। দৈনিক ৮শ থেকে ৯শ টাকার পিঠা ও ডিম বিক্রি করি। এরমধ্যে লাভ থাকে ২শ থেকে ৩শ টাকা। এ টাকায় সন্তানদের নিয়ে চলা কঠিন হয়ে যায়।’

রহিমা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ছেলেমেয়েকে বড় করেছি। এরমধ‌্যে এক ছেলে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি চলে গেছে। দুই ছেলে নানা পেশায় কাজ করে নিজেরা চলছে। কিন্তু তারা আমাকে তেমন দেখাশোনা করে না। এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি আর এক মেয়েকে লেখাপড়া করানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু অর্থাভাবে লেখাপড়া করাতে হিমশিম খেতে হয়। সৎপথে বেঁচে থেকে মেয়েটাকে লেখাপড়া করাতে চাই। অন‌্যদের মানুষ করতে চাই। কিন্তু ব‌্যবসা ছোট হওয়াতে তা পারি না। কেউ যদি আমার দোকানের জন‌্য কিছু পুঁজি দিতো তাহলে ব‌্যবসাটা বড় করাতে পারতাম। এতে আমার মেয়েটা একটু লেখাপড়া করতে পারতো। আমরা একটু ভালো চলতে পারতাম। তাই সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আমাকে সহায়তার করার অনুরোধ জানাই।’

সমাজপতিদের কাছে রহিমা আক্তার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তিনি একজন বিধবা নারী। তিনি ভীষন অসহায়। তাকে একটা বিধবা ভাতা কার্ড করে দিলেও এই বয়সে তিনি ভালো থাকবেন। তাকে দোকানের পুঁজির জন‌্য কারোও কাছে আর হাত পাততে হবে না।

উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গাজীউর রহমান ইমরান বলেন, ‘রহিমা আক্তারকে মাঝে মধ্যে সহায়তা করি। তার পিঠার দোকানের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। তবে সরকারিভাবে তাকে কিছু একটা করে দেওয়ার জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল ও ইউএনও মো. মিনহাজুল ইসলামকে অনুরোধ করবো।

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /৩০ ডিসেম্বর ২০২০/ এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ