1. [email protected] : Developer :
  2. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
সড়কের উন্নয়ন কাজের নামে চলছে অনিয়ম, দাবী স্থানীয়দের
রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১২:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেটের সবজির বাজারে আগুন নেভাচ্ছে শীতের হাওয়া করোনাভাইরাস :২১ জন শনাক্তদের মধ্যে ২০ জনই সিলেট জেলার তাহিরপুরের বাদাঘাটে পুত্রের হাতে পিতা খুন ! বাহুবলে উপজেলা কৃষকলীগের মাদক বিরোধী সমাবেশ মাধবদীতে সৎ ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ আসলাম সরদার সুরমা নদীর তীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ২য় দিনের মতো কর্মবিরতিতে বিশ্বনাথ উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারিরা নবীগঞ্জে স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়ন বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত জাতীয় ধান,চাল ক্রয় কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ে জেলা কৃষকলীগ কে অন্তর্ভুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ফারিয়া-অপুর ভাঙল সংসার

  • আপডেটের সময় : অক্টোবর, ২২, ২০২০, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
সড়কের উন্নয়ন কাজের নামে চলছে অনিয়ম, দাবী স্থানীয়দের
ছবি-সংগৃহীত

সড়কের উন্নয়ন কাজের নামে চলছে অনিয়ম, দাবী স্থানীয়দের

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: সুরমা নদীর উত্তরপাড়ে একাধিক স্থানে সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। চলতি বছরে সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রাম থেকে ইব্রাহীমপুর আনন্দ বাজার এবং হালুয়ারঘাট থেকে মইনপুর হয়ে জগন্নাথপুর গ্রাম পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। তবে সড়কের কাজে তদারকিতে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সুরমা ইউনিয়নের উপর দিয়ে নির্মাণ হওয়া একাধিক সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানের হাজার হাজার মানুষ শহরে আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দুই সড়কে ভালমানের কোনো কাজ হচ্ছে না। ঠিকাদারদের খেয়াল খুশিমত সড়ক উন্নয়ন কাজের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে চলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কোনো কোনো স্থানে সংকীর্ণ পাকা ঢালাই আবার কোনো কোনো স্থানে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়নি। কাজ চলাকালীন সময়ে দুই এক স্থানে পাকা সড়ক ভেঙে পড়েছে। কাজ না করে অসম্পূর্ণ সড়ক রাখায় জনগণ চরম ভোগান্তিতে এবং ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় ঠিকাদার আব্দুল হানিফ হালুয়ারঘাট বাজারের উত্তরে কিছু অংশ অসম্পূর্ণ রেখে ঢালাইয়ের কাজ করেছিলেন গত দুই বছর আগে। এই স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন ও মানুষ চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

ওই সময়ে সংস্কার হওয়া হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা বিটুমিনাস সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার চলতি বছর হালুয়ারঘাট থেকে শুরু করে মইনপুর জামে মসজিদ পর্যন্ত কাজ করেছেন ঠিকাদার আব্দুল হানিফ।

ব্লকের সড়কের উপর পাকা ঢালাইয়ের কাজ অতি সংকীর্ণ এবং হালকা করে দেয়া হয়েছে। কাজ অগোছালো এবং সড়কের সাইটে আঁকাবাঁকা করে ঢালাই করা হয়েছে। মইনপুর জামে মসজিদ থেকে শুরু করে জগন্নাথপুর পর্যন্ত পাকা ঢালাইয়ের কাজ করেছেন দোয়ারাবাজার উপজেলার ঠিকাদার মিলন কান্তি দে। কিন্তু মইনপুর জামে মসজিদ থেকে শুরু করে ইমান আলীর বাড়ি পর্যন্ত ২ শ মিটার সড়কের কাজ করেননি তিনি। কাজ না করায় এবারের বন্যায় সড়কের স্থায়ী মাটি সরে গেছে। কারণ ঢালাই দেয়ার জন্য ঠিকাদার সড়কের স্থায়ী মাটি কেটে সাইটে ফেলে রেখেছিলেন।

এই কারণে মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং ঝুঁকি নিয়ে সড়কে চলাচল করছেন। এই সড়কের পাকা ঢালাইয়ের দুই স্থানে সাইট ভেঙে গেছে কাজ চলাকালীন সময়েই। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে সৈয়দপুর থেকে ইব্রাহীমপুর গ্রামের আনন্দ বাজার পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন কাজ। এই সড়কের কাজ পেয়েছেন ঠিকাদার আব্দুল হানিফ। কিন্তু কাজের শুরুতে সড়কের সাইটে গার্ডওয়াল নির্মাণ কালে শুরু হয়েছে অনিয়ম। সৈয়দপুর গ্রামের ইব্রাহীমের বাড়ির উত্তর দিকের কালভার্ট সেতু হতে মোবারক মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে নিম্নমানের গার্ডওয়াল হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সড়কের দৈর্ঘ্য, প্রস্ত, ঢালাইয়ের উচ্চতা ইত্যাদি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞেস করলেও কোনো সদুত্তর পাননি তাঁরা। বরং নানা হয়রানির ইঙ্গিত প্রদর্শন করে কথা বলেন ঠিকাদার আব্দুল হানিফ ও তাঁর লোকজন। এই সড়কের উন্নয়ন কাজে সরকারি কর্মকর্তাদের তদারকি নেই। সাইবোর্ডও ঝুলিয়ে রাখা হয়নি সড়কের পাশে। প্রায় ১ বর্গ কিলোমিটার গার্ডওয়ালের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে, এই গার্ডওয়াল ভেঙে নতুন গার্ডওয়াল নির্মাণ করার দাবি এলাকাবাসীর।

সোমবার বিকালে সৈয়দপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় চাঁদাবাজির মামলায় ঢুকিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ঠিকাদারের লোকজন। ওইদিন এলজিইডি’র এক প্রকৌশলী সরেজমিনে এসে কাজে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন।

ইব্রাহীমপুর গ্রামের ব্যবসায়ী ফুল মিয়া জানান, সৈয়দপুর-ইব্রাহীমপুর সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আগে এলাকাবাসীকে নিয়ে এক এলজিইডি’র কর্মকর্তা ছোট পরিসরে সভা করেছেন। সহযোগিতা করার কথাও বলেছিলেন। কাজ শুরু হয়েছে, কিন্তু কেউ আমাদেরকে জানায় নি। সৈয়দপুর এলাকায় এই সড়কের কাজে শুরুতেই অনিয়ম হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এমরান হোসেন বলেন, আমাদেরকে জানানো হয়েছিল সড়কের নির্মাণ কাজের শুরুতেই জানানো হবে। পরে দেখা যায় ঠিকাদারের লোকজন নিজেদের মতামতে কাজ শুরু করে অনিয়ম করছে। প্রতিবাদ করায় নানা হুমকি দেয়।

ঠিকাদার আব্দুল হানিফ বললেন, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। সড়কের কাজে অযথাই ঝামেলা করছে স্থানীয় কিছু লোক।

প্রায় ১ মাস আগে এই প্রতিবেদককে দোয়ারাবাজার উপজেলার ঠিকাদার মিলন কান্তি দে বলেছিলেন, মইনপুর এলাকার ২শ’ মিটার সড়কের কাজ বৃষ্টির শেষে করে দেয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সড়কের কাজ করার কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগ শুনে এলাকা পরিদর্শন করেছি। সড়কের কাজ ভালমানের না হলে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এসেছি। এখনো কোনো অনিয়ম হয়নি। দেখাশোনা করার জন্য অফিসের স্টাফ দেয়া হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক সড়কের কাজ দেখাশোনা করবেন।

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /২২ অক্টোবর ২০২০/এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ