1. [email protected] : Developer :
  2. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
নগর পুলিশে রমরমা ‘পোস্টিং বাণিজ্য’
রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে গাড়ি আটকিয়ে চাঁদা আদায়কালে পিকআপ চাপায় হিজড়া নিহত সিলেটের সবজির বাজারে আগুন নেভাচ্ছে শীতের হাওয়া করোনাভাইরাস :২১ জন শনাক্তদের মধ্যে ২০ জনই সিলেট জেলার তাহিরপুরের বাদাঘাটে পুত্রের হাতে পিতা খুন ! বাহুবলে উপজেলা কৃষকলীগের মাদক বিরোধী সমাবেশ মাধবদীতে সৎ ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ আসলাম সরদার সুরমা নদীর তীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ২য় দিনের মতো কর্মবিরতিতে বিশ্বনাথ উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারিরা নবীগঞ্জে স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়ন বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত জাতীয় ধান,চাল ক্রয় কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ে জেলা কৃষকলীগ কে অন্তর্ভুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা

পোস্টিং যোগ্যতা অনুযায়ী : এস এম পি মুখপাত্র

  • আপডেটের সময় : অক্টোবর, ২১, ২০২০, ১:১১ অপরাহ্ণ
এসএমপি
ছবি-প্রতীকী

নগর পুলিশে রমরমা ‘পোস্টিং বাণিজ্য’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে (এসএমপি) চলছে রমরমা পোস্টিং বাণিজ্য। কনস্টেবল থেকে শুরু করে এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পোস্টিং নিতে হয় অর্থের বিনিময়ে। তাতে কর্মকর্তাদের পকেটস্থ হয় বিপুল ‘অর্থ’। তবে, পোস্টিং প্রত্যাশীদের কাছে থানার চেয়ে ফাঁড়িতে পোস্টিং নেবার ব্যাপারে আগ্রহ বেশি। পুলিশ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে উঠে এসেছে এসব তথ্য। তবে, পোস্টিং বাণিজ্যকে বানোয়াট বিষয় বলে উড়িয়ে দেন নগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বি.এম. আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের।

এসএমপিতে পোস্টিং হয় যোগ্যতা অনুযায়ী। এখানে অর্থ লেনদেনের প্রশ্নই আসে না বলে দাবি এ কর্মকর্তার। অহেতুক কাউকে কোন বিষয়ে জড়ানো ঠিক হবে না জানিয়ে এসএমপি’র মুখপাত্র বলেন, আমার নিজের চোখেও পোস্টিং বাণিজ্যের কিছুই ধরা পড়েনি। এমন কিছু হলে কারো না কারো নজরে আসতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্য কোনো ইউনিট থেকে এসএমপিতে কনস্টেবল, এএসআই ও এসআই বদলি হয়ে আসার পর প্রথমে সেন্ট্রাল আর.ও-১ এর কার্যালয়ে হাজিরা দিতে হয়। ঢাকা-মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সহ অন্যান্য নগর পুলিশের নিয়ম হলো, আর ও-১ এর কার্যালয়ে হাজিরা দেওয়ার পরই ওই পুলিশ সদস্যকে ইউনিটের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে কোনো একটিতে বদলি করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে পোস্টিং দেয়া হয়। পরিদর্শকের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

এক্ষেত্রে এসএমপি’র বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। এখানে যোগদানের পরই আর.ও-১ উপ-পরিদর্শক খায়রুদ্দিনের সাথে আলোচনা ‘ফাইনাল’ হলে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই পুলিশ সদস্যদের পোস্টিং হয়। অবশ্য এজন্য নগদে পেমেন্ট করতে হয়। সূত্রের দাবি, নগর পুলিশের পোস্টিং বাণিজ্যের মূল ব্যক্তিই হলেন খায়রুদ্দিন। তবে, তিনি একা নন বা তার একার কিছু করার ক্ষমতাও নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই খায়রুদ্দিনকে দিয়েই এমনটি করাচ্ছেন বলে সূত্রের দাবি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, সিলেট নগর পুলিশের ফাঁড়িতে পোস্টিং পেতে এসআইকে দিতে হয় সর্বনিম্ন ৮ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ লাখ টাকা। এছাড়া, এএসআইকে ১ লাখ ২০ হাজার, এটি এএসআইকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং কনস্টেবলকে ৪০ হাজার টাকা ‘উৎকোচ’ দিতে হয়। সূত্র মতে, থানার চেয়ে বেশির ভাগ সদস্যই পুলিশ ফাঁড়িতে যেতে আগ্রহী। এজন্য তারা নানাভাবে তদ্ববিরও করান। এসএমপি’র পুলিশ ফাঁড়ির মধ্যে-বন্দরবাজার ও কদমতলী ফাঁড়িতে পোস্টিংয়ের চাহিদা সবচাইতে বেশি। এ দুই ফাঁড়িতে পোস্টিং পেলেই কর্মকর্তাদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না।

রায়হান হত্যাকান্ডের পর সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পলাতক এসআই আকবরের আলীশান বাড়ি-বিপুল সম্পদের খবরটি সংবাদপত্রে উঠে আসার পরই ফাঁড়ি ও পোস্টিং বাণিজ্যের বিষয়টি জনসম্মুখে উন্মোচিত হতে থাকে।

পুলিশ সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে পুলিশ ফাঁড়িতে আসার জন্যে কনস্টেবল, এএসআই ও এস.আইরা থাকেন তৎপর। এমনও নজির আছে, একজন এসআই একই ফাঁড়িতে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার একই এসআই ঘুরে ফিরে একাধিক পুলিশ ফাঁড়িরও দায়িত্বে রয়েছেন। অথচ এসএমপিতে অসংখ্য এসআই রয়েছেন-যাদের ভাগ্যে কখনো ‘আই সি’ শব্দটি লাগেনি। সূত্র মতে, পোস্টিং বাণিজ্যের পদায়ন হওয়া কর্মকর্তারা নগদে দিয়ে আসা অর্থ তুলতে তৎপর হয়ে উঠেন। অর্থের পেছনে অন্ধ হয়ে ছুটার কারণে তারা তাদের কর্তব্য এমনকি সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাটিও ভুলে যান। এসব কর্মকর্তার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটে। এ বিষয়ে কথা বলতে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেন্ট্রাল আর.ও-১ খায়রুদ্দিন’র সেলফোনে কল দেয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সুশাসনের জন্যে নাগরিক (সুজন)’র সিলেট চ্যাপ্টারের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুলিশে নিয়োগ বাণিজ্য, পোস্টিং বাণিজ্য-এসব অনেক পুরনো ইতিহাস। নিয়োগে কিছুটা পরিবর্তন আসলেও পোস্টিং বাণিজ্য এখনো রমরমা। সিলেটের বর্তমান অবস্থা আরো ভয়াবহ। এখানে সিন্ডিকেট করে পোস্টিং বাণিজ্য হয়। কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এসব থামবে না। পোস্টিং বাণিজ্য বন্ধ না হলে অপরাধও কমবে না বলে মন্তব্য তাঁর।সূত্র- সিলেটের ডাক

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /২১ অক্টোবর ২০২০/এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ