1. [email protected] : Developer :
  2. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
এসআই শাহিনসহ এসএমপির অনেকে পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়িত: মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাহুবলে সেনাবাহিনীর গাড়ীর সাথে হবিগঞ্জ বিরতিহীন বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষঃ সেনা সদস্য সহ আহত ২০ বিশ্বনাথের লামাকাজী ইউনিয়নের পরিদর্শনে এমপি মোকাব্বির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত কসাইকে সঙ্গে নিয়ে মায়ের লাশ পাঁচ টুকরা করে ছেলে: পুলিশ কুকুরের সঙ্গে ‘ফেরেশতার’ তুলনা করলেন অভিনেত্রী তুষ্টি বানিয়াচংয়ে দূর্গাপূজার পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চৌধুরী বাহুবলে সাবেক সেনা সদস্যের ফিশারীতে গাছ কর্তন ভারী বৃষ্টি হতে পারে আরো দুই দিন আবহাওয়া অধিদপ্তর বাহুবলে চা শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ স্যানিটেশন বায়োফিল টয়লেট সরকারের সাফল্য বহন করছে সাতক্ষীরার ফোর মার্ডার : ৪ জনকে একাই খুন করে নিহতের ভাই রাহানুর

এসআই শাহিনসহ এসএমপির অনেকে পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়িত: মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

  • আপডেটের সময় : অক্টোবর, ১৮, ২০২০, ১:০৮ am
এসআই শাহিনসহ এসএমপির অনেকে পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়িত: মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি
ছবি-সংগৃহীত
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া :: এক আকবর কাণ্ডেই সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অনেক থানা ও ফাঁড়ি কর্মকর্তাদের অপরাধে জড়ানার বিষয়টি আলোচনায় উঠেছে। এদের বেশিরভাগই নানাভাবে পোস্টিং নিয়ে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, জুয়াড়ীদের সঙ্গে সখ্য গড়ার পাশাপাশি ফুটপাতে চাঁদাবাজি এবং দেহ ব্যাবসায়ীদের সাথে আতাঁত করে মাসুয়ারা নিয়ে মাসে অন্তত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এসএমপির অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তারা। এসব বিষয়ে এসএমপির সিনিয়র অনেক সৎ কর্মকর্তা জেনে শুনেও থাকতে হয় নীরব। পুলিশের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে পাবলিকের কোনো অভিযোগ কার্যকর হয় না। এ প্রথা দীর্ঘদিন থেকে চলে আসায় অপরাধ কর্মকান্ডে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা এখন বেপরোয়া। যার প্রমাণ সিলেটের পুলিশ ফাড়িতে রায়হান হত্যার ঘটনা।

এদিকে বিতর্কিত এই পুলিশ ফাড়ির নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয় এস আই শাহিনকে। তার বিরুদ্ধেও মানুষের কাছে জুয়াড়ী শাহিন হিসেবে ব্যতিক্রমী একটি পরিচয় রয়েছে। বন্দর পুশিল ফাঁড়িতে তার অতীত অপকর্মের কথা উঠে আসায় তাকেও বদলী করা হয়েছে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে।

জানা রযায়, শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে জুয়া, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ থাকাকালে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাহিনকে প্রত্যাহার করে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। এরপর দক্ষিণ সুরমা থানার কদমতলী বাস টার্মিনাল ফাঁড়িতে বদলি হন তিনি। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে শাহিন বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসআই শাহিন মিয়াকে বন্দরবাজার ফাঁড়ির দায়িত্ব প্রদানের পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। এই পুলিশ কর্মকর্তারা বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-জোয়া খেলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। শাহিনের জোয়া খেলার ছবিও শুক্রবার দিনভর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচনার প্রেক্ষিতে এসআই শাহিনকে বন্দরবাজার ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে শুক্রবার অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তবে সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিস) বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের জানান বিমানবন্দর থানায় বদলি করা হয়েছে।

এদিকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় চাকরি করার সুবাদে অপরাধ ও অপরাধীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হিসেবে মনে করছেন অনেকেই।

তবে সিলেটে চাকরির ক্ষেত্রে নমিনেশন বাণিজ্য হয় কোটি কোটি টাকা এমন খবর রয়েছে পুলিশের অভ্যন্তরে। সিলেটে চাকুরীর পোস্টিং নিতে গেলে কর্তাদের মন খুশি করতে কেউ কেউ জায়গা জমি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। কারণ সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। এখানে চাকুরীতে যোগদান করলেই টাকা আর টাকা!! এসব কারণে যোগদানের সময় বিনিয়োগ করা অর্থ পুষিয়ে নিতে এসআই আকবরের মতো পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে এসে হত্যা, এসআই শাহিনের মতো জুয়াড়ী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্য গড়ে তুলার ঘটনা ঘটে থাকে।

জানাযায়, সম্প্রতি বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান নামের যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় যিনি বরখাস্ত হয়েছেন সেই ইনচার্জ এসআই আকবর হোসন ভূঁইয়াও এসএমপিতে অনেক বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। গোয়েন্দা পুলিশের পর কোতোয়ালী থানায় এবং পরবর্তিতে ফাঁড়িতে যোগ দেন। এই আকবরের মতো অনেকেই এসএমপিতে বছরের পর বছর চেয়ার দখল করে রেখেছেন। এরা শুধু দক্ষিণ থেকে উত্তর, উত্তর থেকে দক্ষিণ, এসএমপি থেকে জেলা আবার জেলা থেকে এসএমপি এভাবে ঘুরেফিরে সিলেটেই চাকরিতে আছেন। এদের কেউ কেউ রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে বহাল তবিয়তে থাকেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের সংখ্যা মোট ১৮টি। এর মধ্যে থানার সংখ্যা ছয়টি। থানাগুলো হল- উত্তর বিভাগে কোতোয়ালী মডেল থানা, এয়ারপোর্ট থানা ও জালালাবাদ থানা এবং দক্ষিণ বিভাগে দক্ষিণ সুরমা থানা, শাহপরাণ থানা ও মোগলাবাজার থানা। এর মধ্যে কোতোয়ালী থানার অধীনে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ি, লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি ও শাহজালাল (রহ.) মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, এয়ারপাের্ট থানার অধীনে আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ি ও কালাগুল পুলিশ ক্যাম্প, জালালাবাদ থানার অধীনে শিবের বাজার পুলিশ ফাঁড়ি এবং দক্ষিণ সুরমা থানার অধীনে দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়ি, কামালবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, শাহপরাণ থানার অধীনে উপশহর অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি, শাহপরাণ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও মোগলাবাজার থানার অধীনে আলমপুর পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। উল্লিখিত থানাগুলোতে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পোস্টিং পেতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তদবির লেগে থাকে। কোন না কোন রাজনৈতিক নেতা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এসব বিষয়ে তদবির করেন। এই তদবিরে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয় তা উত্তোলন করেও আরও অন্তত শতভাগ টার্গেট থাকে অনৈতিকভাবে আয় করার। আর এ ক্ষেত্রেই অনেক কর্মকর্তা জড়িয়ে যান অপরাধ কর্মকাণ্ডে। ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিখেকোদের সঙ্গে গড়ে ওঠে সখ্যতা। তাদের মাধ্যমেই লেনদেন হয় লাখ লাখ টাকা।

এছাড়া প্রায় প্রতিটি ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের অনেকে ছোটখাটো অপরাধ করলেও পুলিশ ফাঁড়িগুলোর মধ্যে লোভনীয় হিসেবে পরিচিত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি, আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ি, দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়ি, শাহপরাণ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। এগুলোর অধীনে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ফুটপাত ও পরিবহনে চাঁদাবাজি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এছাড়া ফাঁড়িগুলোতে গভীর রাতে ও ভোরে সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এসব নিয়ন্ত্রণে মাঝেমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্তরিক থাকলেও সেখানকার দায়িত্বরতদের কারণে অনেক সময় সম্ভব হয় না। ফলে তাদের অনেক সফলতা থাকলেও দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় গোটা পুলিশকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, পুলিশের অপরাধ ও চাঁদাবাজির কথা প্রায়ই শোনা যায়। তাদের অনেক বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছি।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বিপিএম বলেন, তদবিরে পোস্টিং দেয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। ব্যক্তির দায় গোটা পুলিশ বাহীনী নিবেনা বলেও জানান তিনি।

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /১৮ অক্টোবর ২০২০/এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ