1. [email protected] : Developer :
  2. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
কোথায় এসআই আকবর?
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাহুবলে সেনাবাহিনীর গাড়ীর সাথে হবিগঞ্জ বিরতিহীন বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষঃ সেনা সদস্য সহ আহত ২০ বিশ্বনাথের লামাকাজী ইউনিয়নের পরিদর্শনে এমপি মোকাব্বির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত কসাইকে সঙ্গে নিয়ে মায়ের লাশ পাঁচ টুকরা করে ছেলে: পুলিশ কুকুরের সঙ্গে ‘ফেরেশতার’ তুলনা করলেন অভিনেত্রী তুষ্টি বানিয়াচংয়ে দূর্গাপূজার পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চৌধুরী বাহুবলে সাবেক সেনা সদস্যের ফিশারীতে গাছ কর্তন ভারী বৃষ্টি হতে পারে আরো দুই দিন আবহাওয়া অধিদপ্তর বাহুবলে চা শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ স্যানিটেশন বায়োফিল টয়লেট সরকারের সাফল্য বহন করছে সাতক্ষীরার ফোর মার্ডার : ৪ জনকে একাই খুন করে নিহতের ভাই রাহানুর

কোথায় এসআই আকবর?

  • আপডেটের সময় : অক্টোবর, ১৭, ২০২০, ২:৩০ pm
এসআই আকবর ভুঁইয়া - ছবি সংগৃহীত
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর ৬ দিনে পেরিয়ে গেলেও, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পরেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রায়হান হত্যার ঘটনার অগ্রভাগে থাকা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (বরখাস্ত) এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ারও হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। ঘটনার পর থেকে বরখাস্ত ও প্রত্যাহার হওয়া দুই এএসআই ও চার কনস্টেবল পুলিশের পাহারায় সিলেট পুলিশ লাইন্সে রয়েছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য ইতোমধ্যে কাষ্টঘর এলাকার সুইপার কলোনির সুলাই লালসহ দুই জনকে জিজ্ঞাবাদ করেছে। আর মূল হোতা এসআই আকবরসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল রয়েছে সিলেট।

সবকিছু ছাপিয়ে সবার মনে একটাই প্রশ্ন আকবর হোসেন ভূঁইয়া কোথায়? সিলেট মহানগর পুলিশের লাপাত্তা এই অফিসারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। এ বিষয়ে অবশ্য বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলছেন। কেউ বলছেন, তিনি পুলিশের হাতের মুঠোয়ই আছেন। আবার পুলিশের কর্মকর্তারাও বলছেন, তিনি নাগালের বাইরে।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আকবর পলাতক রয়েছে। পুলিশ সব বিষয়ে সর্তক রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। তারা চাইলে আকবর ছাড়া অন্যদের তাদের কাছে দেওয়া হবে।’ পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. খালেদুজ্জামান জানান, তদন্তকালে যাদের না পাওয়া যাবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মামলাটি স্পর্শকাতর, তাই সব বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ প্রয়োজন। সে জন্য পিবিআই’র এর তদন্ত দল নানা বিষয় মাথায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রায়হান হত্যার ঘটনার পর থেকে পুলিশ লাইন্সে অভিযুক্ত ৬ পুলিশের পাহারায় রয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের। তিনি বলেন, ‘হত্যা মামলাটির পুরো বিষয় তদন্ত করছে পিবিআই। আর তাদের সহযোগিতা করছে পুলিশ। বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্ত হওয়া ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাকে খুঁচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এছাড়া সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে এসআই আকবর যেন দেশ ছাড়তে না পারে, সেজন্য পুলিশের নজরদারি রয়েছে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশের হেফাজতে থেকে পুলিশ সদস্যের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নাটকের একটি অংশ। এখন দেখুন, নিরাপত্তা কোথায় রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পক্ষপাতিত্ব আচরণ করেছেন পুলিশেরই সঙ্গেই। বরখাস্ত ও প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যদের পুলিশ লাইন্সে নিরাপত্তা দিয়ে রাখা হলেও এসআই আকবরকে তারাই পালাতে সুযোগ করে দিয়েছেন। এটা পুলিশের ব্যর্থতা ও উদাসীনতার অংশ।’ নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশের আচরণ আমাদের হতাশ করেছে। আমার ছেলের হত্যাকারী এসআই আকবরকে তারাই পালাতে বলেছে। প্রায় এক সাপ্তাহ হয়ে গেলেও আকবরসহ খুনি পুলিশ সদস্যদের কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। আমি কিছুই চাই না, আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। সেইসঙ্গে যমদূত এসআই আকবরকে ধরার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ জানাই।’

পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত আকবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতেই অবস্থান করছিলেন। তখন পর্যন্ত তাকে বেশ চিন্তিত দেখা গেছে। এরপরই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান তিনি। আকবর তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেট এবং সরকারি সেট দুটোই ফাঁড়িতে রেখে গায়েব হয়ে যান। গা ঢাকা দিয়ে কোথায় আছেন, সেই হদিস কেউ দিতে পারছেন না। তার আগে সে খুনের সব আলামত নষ্ট করে দেয়। তবে ফাঁড়ির ইনচার্জ গা ঢাকা দিলেও অভিযুক্ত অন্য সদস্যদের পুলিশ লাইন্সে রাখা হয়েছে। এএসআই আশেক এলাহি, কুতুব উদ্দিন, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ, হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও সজিব এখন পুলিশ লাইন্সে বিশেষ নজরদারিতে আছেন। তবে রায়হান হত্যার ঘটনায় কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি।

এদিকে, রায়হান হত্যায় জড়িত পুলিশ সদস্যরা আইনের আওতায় না আসায় ক্ষোভ কমছে না সিলেটে। কেউ জানে না এই মামলার আসামি কারা। রায়হান পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায়ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সিলেটে। ঘটনার পরপরই কেন রায়হানকে আটকে রাখা হলো না, সে প্রশ্ন এখন সবার। তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলার পর রায়হানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সিলেট মহানগর এলাকা ছেড়ে সে যেন বাইরে বের না হয়। এরপরও ঘটনার পর বন্দরবাজার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে এবং আলামত গায়েব করে পালায় এসআই আকবর। এখনও পর্যন্ত পুলিশ তার খোঁজ পায়নি।

উল্লেখ্য, রায়হান উদ্দিন নামের ওই যুবককে বন্দরবাজার থানা পুলিশ গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে আটক করে। ওই দিন রাতে ফাঁড়িতে তার ওপর নির্যাতন চালায় পুলিশ এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করে। ভোরে অপরিচিত একটি মোবাইল থেকে ছেলের ফোন পায় রায়হানের বাবা।

 

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম/ ১৭ অক্টোবর ২০২০/ শাহরিয়ার খাঁন সাকিব


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ