1. [email protected] : Developer :
  2. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
  3. [email protected] : Faisal Younus : Faisal Younus
রক্ত জরা আগস্ট : বাঙালির দহনকাল
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২০, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন

রক্ত জরা আগস্ট : বাঙালির দহনকাল

  • আপডেটের সময় : আগস্ট, ১, ২০২০, ৪:১৯ pm
র
ছবি ফাইল
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেটপ্রেসডেস্ক:চিৎকার, ক্রন্দন আর শশব্যস্ত আহ্বানের মাঝে/উল্লাস করছে অন্ধ জনতা।/ ওরা বলে, ‘এখন ভোর’, কিন্তু জীবনপানে তাকিয়ে/ আমি দেখি রাত্রি, ঘোর অমানিশা।’ পঁচাত্তরের পনের আগস্ট বাংলার আকাশের ঘোর কৃষ্ণপক্ষকে ‘আকাশ প্ল্যানেট’ কবিতায় এভাবেই তুলে ধরেছিলেন পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের শ্রেষ্ঠ কবি মীর গুল বাগ খান নাসির। বাঙালির ক্যালে-ারের বছরের সবচেয়ে নির্মম মাস আগস্ট।
শোকের মাস আগস্ট। ৪৫ বছর আগে আগস্টেই ঘাতকের নির্মম বুলেটে সপরিবারে প্রাণ হারান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আগস্ট এলেই ঘাতকের উদ্ধ্যত সঙ্গীন আর পিতৃহন্তারকের নির্মম বুলেটে গুমরে কাঁদে রক্তাক্ত বিবেক। থেমে যায় সব কোলাহল। থমকে যাওয়া সময়ে পিতৃহারানোর শোকে মূহ্যমান হয় জাতি।

আগস্টের কালরাতে সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা জাতির ললাটে এঁকে দেয় পিতৃহন্তারকের কালিমা লেখা। ক্যালে-ারে আগস্ট আসা মানেই পিতৃহারা জাতির বিলাপ বারবার ফিরে আসে, রক্তাক্ত করে অন্তর। কবির ভাষায়, ‘শুনেছ যুদ্ধের ডাক? সময় যে যায়/ খুনিকে করুণা দিয়ে যারা আজ বিজয়ের মৃদঙ্গ বাজায়/ ‘জারজ’ এ পরিচয় ইতিহাস আজ শুধু/ তাদের জন্যেই কোনো নিঃশব্দে সাজায়।’
নরকের দরজা খুলে যাওয়া সেই কৃষ্ণপক্ষ: ‘সেই রাতে আকাশে একটিও নক্ষত্র ছিল না, সেই প্রাতে সূর্যালোক বন্দি ছিল কৃষ্ণ গহ্বরে, সেই রাতে ঈশ্বর তাই দেখতে পাননি, পৃথিবীতে কী ঘটেছিল!’ প্রবীণরা বলেন, সেই রাতে ঢাকার আকাশে কালো মেঘ ছিল, ছিল না বৃষ্টি, ছিল না আঁধার বিদীর্ণ করা নীল জ্যোৎস্না। শ্রাবণের আঁধারে ডুব দিয়েছিল বৃষ্টিহীন রুক্ষরাত। আর এই অমানিশার অন্ধকারে রচিত হয়েছিল ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়। রাজধানীর আকাশে-বাতাসে তখনো ছড়ায়নি মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ থেকে আজানের সুরেলা ধ্বনি। ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘোর কৃষ্ণপ্রহরে হায়েনার দল বেরিয়ে আসে। নিদ্রাচ্ছন্ন নগরীর নীরবতাকে ট্যাঙ্ক-মেশিনগানের গর্জনে ছিন্নভিন্ন করে ওরা সংহার করে তাকে ‘লোকটির নাম বাংলাদেশ। শেখ মুজিবুর রহমান।’
অভিশপ্ত রাত্রির শোকগাঁথাকে ‘সেই রাত্রির কল্পকাহিনী’তে তুলে ধরেছেন নির্মলেন্দু গুণ। কবিতাটির শেষ চরণগুলো পঁয়তাল্লিশ বছর আগের কলঙ্কিত ট্যাজেডিকে সামনে নিয়ে আসে। ‘তোমার নিষ্প্রাণ দেহখানি সিঁড়ি দিয়ে গড়াতে, গড়াতে, গড়াতে/ আমাদের পায়ের তলায় এসে হুমড়ি খেয়ে থামলো/ কিন্তু তোমার রক্তস্রোত থামলো না/ সিঁড়ি ডিঙিয়ে, বারান্দার মেঝে গড়িয়ে সেই রক্ত/ সেই লাল টকটকে রক্ত বাংলার দূর্বা ছোঁয়ার আগেই/ আমাদের কর্নেল সৈন্যদের ফিরে যাবার বাঁশি বাজালেন।’

১৫ আগস্ট আচার্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল বঙ্গবন্ধুর। ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু রাত সাড়ে আটটার দিকে গণভবন থেকে বাড়ি ফেরেন। ওই রাতে কাওরান বাজারে একটি ট্যাংক, পিজি হাসপাতালের সামনে আরেকটি ট্যাংক, মতিঝিলের কাছে আরো একটি ট্যাংক দেখতে পান রাজধানীবাসী। এক কিলোমিটারের ব্যবধানে ৩টি ট্যাংক, আবার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের সামনে আরেকটি ট্যাংক দেখেও কারো মনে কোনো প্রশ্ন আসেনি। কৃষ্ণপক্ষের ওই অন্ধকার রাতে খন্দকার মোশতাকের ৫৪ নং আগামসি লেনের বাসায় মেজর রশিদ এবং তাহেরউদ্দিন ঠাকুরের একান্ত বৈঠক হয়। পরদিন বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবর্ধনা জানানো হবে বলে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কাজ করে সেদিন মধ্যরাতে বাড়ি ফেরেন মুজিবপুত্র শেখ কামাল।

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /১ আগষ্ট ২০২০/আরইউ


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ