1. [email protected] : Developer :
  2. [email protected] : Sylhet Press : Sylhet Press
  3. [email protected] : Faisal Younus : Faisal Younus
"সাহেদের অপরাধ" আমাদের উচু মাথা নিচু করেছে
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

“সাহেদের অপরাধ” আমাদের উচু মাথা নিচু করেছে

  • আপডেটের সময় : জুলাই, ১৮, ২০২০, ৫:৫৭ am
সাহেদ
ছবি-সংগৃহীত
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহিদ আহমদ চৌধুরী :: কোন অন্যায়ের ক্ষমা নেই তা ছোট হোক আর বড় হোক। অন্যায় বা অপরাধের শাস্তি কঠোর করা দরকার যাতে কেউ অন্যায় বা অপরাধ করে পার না পেয়ে যায়।তা ছোট হোক বা বড় হোক,যার কারনে আমরা প্রায় দেখি একটা অপরাধ বিচার বা শাস্তি হওয়ার আগেই সে রকম আরেকটি অপরাধ সংগঠিত হয়ে থাকে।

কিন্তু কেন? একে একে এতো অপরাধ হয়ে থাকে।পৃথিবীর উন্নত দেশ গুলোতে অপরাধ প্রবনতা অনেক কম। তাদের আইন কঠোর হওয়াতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করনে অপরাধীরা অপরাধ করতে সাহস পায় না। পৃথিবীর নানা দেশেই কম বেশি অপরাধ সংগঠিত হয়ে থাকে, যদি ও আমাদের দেশের মতো এতো নয়। তার পর ও অপরাধের ধরন দেখলে সত্যি অবাক হওয়ার মতো কিছু অপরাধ আমাদের দেশে ও পাশ্ববর্তী দুয়েকটি দেশে হয়ে থাকে।আমাদের দেশের এমন অপরাধ দেখলে যে কেউ অবাক না হয়ে পারবেনা, এই করোনা কাল চলছে দীর্ঘ এই সময় মানুষের জন্য এমনিতে বিবিষিকা হয়ে দেখা দিয়েছে ।

চার মাসের বেশি সময় ধরে করোনা বাংলাদেশের মানুষের জীবন কে মন্হরগতি করে ফেলেছে।কর্মহীন হয়ে গেছে হাজার হাজার মানুষ। জীবিকার তাগিদে মানুষ ভুলে গেলে তার সংকটময় জীবনের কথা।কখন যে তার জীবনটাই চলে যায় বলার উপায় নাই।এর মধ্যে যারা আকান্ত তারা যে কত সংকটে রয়েছেন একমাত্র সেই ভুক্তভোগী পরিবার ছাড়া আর কেউ বলতে পারবে না। জীবন মৃত্যুর সন্ধীক্ষণে যে মানুষটি যে পরিবার টি তার সাথে আমাদের কেমন আচরন করা উচিত।

তাকে আমরা অব্যশই মানষিক সহযোগিতা করা উচিত। তার পরিবারের সাথে আমরা মানবিক সাহায্যের হাত বাড়ানো উচিত।বিষেশ করে মানষিক ভাবে যাতে সেই পরিবারটি ভেঙ্গে না পড়ে সেদিকে আমাদের বেশি খেয়াল রাখা দরকার। যদি তাই হয়ে থাকে তবে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান রিজেন্ট গ্রূপের পরিচালক মো: সাহেদের
এই কাজ গুলো কি মানবিক ছিল? কি বলবেন পাটক,অবশ্যই না।

কি অপরাধ করেছে সাহেদ? প্রশ্ন থেকে যায় যদি অপরাধ করে থাকে তবে এটা কি ধরনের অপরাধ? এবং এতে কটি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে? কি ধরনের অপরাধ হয়েছে।তা আগে জানাতে হবে।সাহেদের অপরাধ কি মামুলি? না কোন অপরাধই মামুলি নয়। তার পর যদি এই মহামারির সময় তা হয়েছে মানুষের সাথে যা করেছে সাহেদ তা কি কোন সুস্হ মানুষের কাজ । তবে কি সাহেদ মানষিকভাবে অসুস্হ? কিভাবে সে এ কাজ করল? কে দেবে এর জবাব। নাকি ক্ষমতার দাপটে সে এসব করতে পেরেছে। গত এক সপ্তাহ থেকে বিভিন্নভাবে সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার ছবি ভাইরাল হচ্ছে। ভাইরাল হচ্ছে জেকেজি হাসপাতলের চেয়ারম্যান যিনি করোনার টেষ্ট করতেন ডা. সাবরিনার ছবি।

তবে দেখলাম আর অবাক হলাম এতো বড় একজন প্রতারক সাহেদের সাথে কার ছবি নাই। কার সাথে তার ছবি ভাইরাল হয়নি। এই যে এতো বড় অপরাধ করার সাহস সে কি করে করতে পারল। এই সমস্ত ছবি কি তার দেয়াল হিসেবে ব্যবসহার করেছে।
এখন আবার প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সে আওয়ামী লীগের নেতা কি না।কেউ কেউ বলছেন সে আওয়ামী লীগের কেউ নয়। কিন্তু তার সাথে কখনো কখনো টক শো তে বা কোন প্রোগামে গেলে তার নামের সাথে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বলে তার নামের সাথে দেখা যেতো। তবে সেই পদবী কে দেয়াল হিসেবে ব্যবহার করেছেন সাহেদ। এই সাহেদের যে কত পরিচয় তা আপনারা দেখেছেন তিনি কখনো সেরাবাহিনীর অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা। কখনো মেজর,আবার কখনো কর্ণেল কখনো বা এডিসি। ব্যবহার করতেন দামী গাড়ি ফ্ল্যাগ ব্যহার করে চলতেন ভি ভিআইপিদের মতো।

তাই কোথাও তাকে কেউ জিজ্ঞেস করার সাহস পেতো না নিরাপওা বাহিনী । সাথে থাকতো রিভলবার ও কয়েকজন গানম্যন। এসব চলাফেরা কি তাকে এসব অপরাধ করতে আরো উৎসাহিত করেছিল। নয়তো কিভাবে তিনি এসব অপরাধ করলেন বা করার সাহস করলেন তা বোধগম্য নয়। একা কারো পক্ষে এসব করা সম্ভবনয়।

তবে এর পেছনে কে বা কারা তা জানা দরকার,এবং খুব কম সময়ের মধ্যে আইন আনুগ কঠিন শাস্তির প্রদান করা দরকার।যে যথ বড় নেতাই হোন না কেন আইনের কাছে সবাই সমান যদি আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে। আমরা আইনকে অনেক সময় ক্ষমতার দাপটে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে থাকি।

তাই অনেক সময় ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হয়।অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। আমাদের চিন্তা করা উচিত করোনা কালিন সময় সারা বিশ্বের মানুষ তথা বাংলাদেশের মানুষ কঠিন সময় পার করছে। দীর্ঘ সময় ধরে করোনার কঠিন থাবা বাংলাদেশের সরকার ও সাধারন জনগনকে কঠিন পরিস্হিতির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে হচ্ছে। এবং এর খেসারত আর কতদিন দিতে হবে তা আমরা কেউ জানিনা।এই করোনার জন্য কত মানুষ আজ বেকার হয়ে বসে আছে।কত মানুষ আজ অসহায় হয়ে ঘুরছে।

কত পরিবার আজ নিস্ব তার কোন হিসাব নেই কারো কাছে। আমাদের দে্শের রেমিটেন্স যোদ্ধারা আজ মানবেতর অবস্হায় রয়েছেন। যাদের টাকায় আমাদের অর্থনীতি চাকা চলে সেই যোদ্ধাদের সাথে প্রতারনা ভাবা যায়। মানুষের জীবন মনর নিয়ে প্রশ্ন সেখানে যদি এই অবস্হা হয় তাহলে আর কোথায় ভরসা পাবে? আসলে আমাদের ভরসার জায়গাটা কোথায়? যেখানে সেখানে দূর্নীতি,শুধু বক্তব্যর মঞ্চে আমরা নীতিবাক্যর গলাবাজি শুনি।

কিন্তু কাজের বেলায় তা আর চোখেঁ পড়েনা। দূর্নীতি নেই সে জায়গাটার নাম কি? রিজেন্ট থোকে আমাদের বিদেশগামী যে সকল ভাইয়েরা সার্টিফিকেট নিয়েছিলেন তাদের টাকা ও ভবিষ্যতের কি হবে। রিজেন্ট কি তাদের সমস্ত খতিপুরন পুষিয়ে দেবে।করোনার এই মহামারির সময় এমন অপরাধ কিভাবে মেনে নেয়া যায়। মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করার অধিকার কোথায় পেলো? সেই সাথে প্রতারনা যা এদেশের মানুষ কখনো ক্ষমা করবে কি জানিনা।

কারন যে কোন অপরাধই অপরাধ,আর তা যদি হয় মানুষের জীবন নিয়ে। যেখানে রাষ্টের সর্বোচ্চ কর্তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানু্ষ কে বাচানোর জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন সেখানে কি সহেদের মতো একজন প্রতারক এমন কাজ করার সাহস পায়।

তার পর ও প্রশ্ন থেকে যায় যদি সে আওয়ামী লীগের দলীয় লোক না হয় তবে সে ২০১৬ পর্যন্ত ৩২ টি মামলা নিয়ে কি করে অবাধে ভিআইপিদের পোটকল নিয়ে চলাফেরা করে। এতগুলো মামলার আসামি কি করে দলের সকল পর্যায়ের নেতাদের সাথে চলাফেরা উঠাবসা করতে পারে।পুলিশ তাকে খোঁজে পায় না, নাকি খোজার সাহস করে না।এতগুলো মামলার আসামিতো বাহিরে থাকার কথা নয়,এমন লোক জেলের বাহিরে থাকা ও মঙ্গল নয়।

তবে এরা কি করে দিব্যি ঘোরাফেরা করে। আবার রাত জেগে টকশোতে নিতিবাক্যর ফুলঝরি ছিটায়।এখন দেখলাম তার মামলা নাকি ৫৬ টা।এতো গুলা মামলা নিয়ে সে ভিআইপি পটোকলে চলাফেরা কি করে। রিজেন্ট হাসপাতালের যখন চুক্তি করে তখন তার সাথে দেখলাম স্কাস্হ্য মন্ত্রী, সচিব,পরিচালক, মহাপরিচালক সহ সকলে মিলে চুক্তি স্বাক্ষর করছেন। একজন একাধীক মামলার আসামির সাথে চক্তি স্বাক্ষর কেমন দেখায় তা কি একবার চিন্তা ও করলনা মন্ত্রনালয়। স্বাস্হ্য অধিদপ্তেরর কথা বাধই দিলাম।যেখানে তার হাসপাতালের লাইসেন্সের কাগজের মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন বছর আগে সেখানে সে কি করে এতো দিন হাসপাতাল চালালো।

কোথায় ছিল স্বাস্হ্য মন্ত্রনালয় ও স্বাস্হ্যঅধিদপ্তর। কি করে কি দেখে এরা কাগজে চুক্তি স্বাক্ষর করলেন তা খতিয়ে দেখা দরকার। যারা চুক্তি স্বাক্ষর কালে ছিলেন তাদের জবাবদিহি করা হোক।কিসের ভিতিতে তানা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। এই যদি হয় উর্ধতন কর্তৃপক্ষেরর কাজ তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ যে কোথায় তা আমাদের বেঝার আর বাকি নাই।সাহেদরা যুগে যুগে থাকবে তাই বলে আমাদের কে সাহেদের চিনতে হবে।সাহেদের কা্ছে আমাদের ভয় বা কোনভাবে পরোচিত হয়ে গেলে চলবে না। আমাদের কে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।

এই সাহেদের মতো পরগাছারা সমাজের দুশমন জাতির দুশমন আমরা তাদের বয়কট করব। সাহেদের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে ডাতে করে আর কোন সাহেদের যাতে জন্ম না হয়। কারন এরা সুস্হ সমাজের জন্য অভিশাপ। সাহেদের মতো না জানি আর কতজন রয়েছে প্রশাসন তাদের খোজ বের করতে হবে। যাতে এরা ভবিষ্যতে আর কেন অন্যয় করতে সাহস না পায়, তাই এমন শাস্তির ব্যবস্হা করতে হবে যাতে আর কেউ এমন কাজে পা বাড়ায়।আমাদের অনেক অর্জন রয়েছে তা যেনো ভুলন্টিত না হয় কোন কারনে সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখা দরকার।

আমাদের অনেক গৌরবের ইতিহাস রয়েছে আমাদের কোন ভুলে যেন তা নম্ট না হয়।আমরা এখন চেষ্টায় আছি বিশ্বের ধনি দেশগুোলর মতো আমরা ও করোনার ভ্যাকসিন বের করব।সেজন্য যারা কাজ করছেন তাদের ধন্যবাদ।

আমাদেরর কোন অর্জন ছোট করে দেখার উপায় নাই।তাই কোন প্রতারক যাতে আর কোন দিন প্রতারনার সাহস না পায় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাথতে হবে।সেই সাথে করোনায় চলাফেরা করতে আমাদের সচেতন হতে হবে। মানতে স্বাস্হবিধী, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধৌতকরি,ঘরে থাকি নিরাপদ থাকা ভয় নয় সচেতনতায় জয়।

লেখক:
সাংবাদিক/ কলামিস্ট

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম /১৮ জুলাই ২০২০/এফ কে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এই বিভাগের আরও খবর


© All rights reserved © 2020 SylhetPress
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ