চেয়ারম্যান তজমুল আলী ও তার রাজনৈতিক জীবন – SylhetPressbd

চেয়ারম্যান তজমুল আলী ও তার রাজনৈতিক জীবন

প্রকাশিত: ২:৫৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০

চেয়ারম্যান তজমুল আলী ও তার রাজনৈতিক জীবন

শহীদ আহমদ জুলহান চৌধুরী :: ষাটের দশকে রাজনীতিতে ফেঞ্চুগঞ্জের মাটিতে বেড়ে ওঠা অন্যতম রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির মাঠের তুখোড় কর্মি সবার আপনজন আওয়ামীলিগ নেতা ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়াম্যান মরহুম মো: শেখ তজমুল আলী। যিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে সরাসরি ১৯৬৮ সালে উপজেলা আওয়ামীলীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত কৃষক- শ্রমিক মেহনতি মানুষের সেবায় তরূণ বয়সে তিনি নিবেদিত ছিলেন। তৃণমূলেরর রাজনীত থেকে বেড়ে মরহুম তজমুল আলী ১৯৭০ সালে মাইজগাঁও রেল স্টেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে মান পত্র পাঠ কনে শোনান। যোগ্যতায় নেতৃত্বে অসামান্য অবদান রাখবেন তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বুঝেছিলেন তাই তিনি তজমুল আলীকে জনসম্মুখে ডেকে নিয়ে তার মাথায় হাত রেখে বলেন তজমুল আলী একদিন বড়নেতা হবে। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও স্বাধীন বাংলা ছাত্রলীগ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন রতনের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়। তিনি তার কাজের তা প্রমান করে গেছেন। ১৯৭২ সালে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়নের সদস্য নির্বাচিত হন তজমুল আলী। সেই সময় তার জনপ্রিয়তা অনেকে অবাক করে দেয়।

 

মুক্তিযেদ্ধের সর্বাধীনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী ১৯৭২ ফেঞ্চুগঞ্জ এলে তজমুল আলীর খোজ করেন। তখন তিনি তাকে ডেকে নিয়ে সাক্ষাৎ করেন।১৯৭৪ সালে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি তার প্রতিটি দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ট্রার সাথে পালন করেন।তার কাজের স্বৃকিতিস্বরূপ তজমুল আলী রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট তজমুল আলী তার রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের আঘাত পান।তার পরদিন সকালে তিনি সকল বাধা বিপওি উপেক্ষা করে তিনি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন।সেই সময়ের ছাত্র নেতা মুহিব উদ্দিন বাদল, সামছুদ্দিন কুর্মি সহ ১০/১১ জন সাহসি ভূমিকা পালন করেন। ১৪৪ ধারা শান্ত আইন ভাঙ্গতে তজমুল আলীর সবচেয়ে কাছের মানুষ ডা: মিনহাজ উদ্দিন,আব্দুল লতিফ,এড. এমলেন্দু এ আর সেলিম,আব্দুর রশিদ মাষ্টার, নাসির উদ্দন রতন সহ অনেকেই ডাকবাংলতে জয়বাংলা বলে মোস্তাক সরকারের বিরোদ্ধে অবস্হান নেন। উওপ্ত ফেঞ্চুগঞ্জের সেই প্রতিবাদের ভাষা অনুপ্রানিত করেছিল সকল শ্রেণী পেশার মানুষের। ১৯৭৭ সালে তিনি পুনরাঢ ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন এবং তৎকালীন রাষ্টপতি জিয়াউর রহমানের অভিনন্দন গ্রহন করেন। সাধারন মানুষের বেশ আপন ও কাছের মানুষ ছিলেন । ১৯৭৯ সালের ১৩ জুলাই তিনি আইন- শৃঙ্গলা উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় রাষ্ট্রপতি কতৃক দলপতি পত্র (সম্মাননা স্মারক) গ্রহন করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলিগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহন করেন। কিন্তু তিনি প্রয়াত আব্দুল লতিফ কে সম্মান করে তিনি সে পদ গ্রহন না করে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ গ্রহন করেন। এমন ঘটনা রাজনৈতিক চিত্রে বিরল। ১৯৮০ সালে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা শ্রমিকলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং সারকারখানা শ্রমিকদের দাবি আদায়ে কাজ করেন। সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য তজমুল আলী ১৯৮৪ সালে সিলেট সদর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহন করেন।১৯৮৫ সালের দিকে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তজমুল আলী ১৯৮৯ সালে আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক তৃনমূল আওয়ামীলীগের পূর্নগঠন ও দলকে সাংগঠনিক রূপ দেয়ার স্বার্থে ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে যোগদেন। ১৯৯১ পরবর্তীতে তজমুল আলী ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা গণদাবী পরিষদোর যুগ্মসম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন,তাছাড়া সারকারখানা রক্ষা আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। সে সময় তার সাথে ছিলেন আব্দুল লতিফ, ডা: মিনহাজ উদ্দিন, এবং শ্রমিক নেতা লুৎফুর রহমান তার ঘনিষ্ট সাথী ছিলেন। সারকারখানায় স্হানীয় শ্রমিকদের চাকুরি দাবী নিয়ে জোর তদবির করেন। তার এই সাহসিক ভুমিকা সকল মহলে প্রসংশিত হয়, তার সেই দাবী সফল হয়েছিল। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের সাথে যুক্ত ছিলেন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সামনে থেকে। খেলাধুলার মান উন্নয়নে তজমুল আলীর গুরূত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন। রাজনীতিতে তিনি সব সময় আরফান আলী ,ডা: মিনহাজ উদ্দিন,আব্দুল লতিফ, ডা: আর কে দাস, নাসির উদ্দান রতন সহ অনেকেই বিভিন্ন সময় হাল ধরেন।

 

তিনি রাজনিতী ছাড়া ও সমাজ সেবায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন করেন। তিনি সালিশ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ছিলেন সবার কাছে পরিচিত। সেই চেয়ারম্যান তজমুল আলী ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি তার পিতার দ্বিতীয় সন্তান, তিনি কাসিম আলী মডেল সরকারী স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। তার পর থেকে শুরূ হয় তার রাজনীতি সমাজসেবা। তিনি বিশ্বাস করতেন সমাজসেবার মাধ্যমেই মানুষের কাছে পৌছার একমাত্র মাধ্যম। তাই তিনি এ পথ বেচে নিয়েছিলেন।

 

 

তিনি আমৃত্যু মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলন হয়ে উঠেছিলেন সবার আপনজন সবার কাছের মানুষ। তিনি বিশ্বাস করতেন সমাজ পরিবর্তন করতে হলে আগে মানুষের পরিবর্তন করতে হবে। তাই তিনি সমাজ সেবায় মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। চেয়ারম্যান তজমুল আলী সমাজের এমন পরিবর্তন চেয়েছিলেন যা মানুষকে তার ব্যক্তি সত্বা মূল্যবোধ, তার অধিকার প্রভৃতি সম্পর্কে সচেতন রাখবে।

যে পরিবর্তন সমাজের ইকিবাচক পরিবর্তনের চিন্তা চেতনাকে জাগিয়ে তোলবে।রাখবে অগ্রনী ভূমিকা তা ছিল তার চিন্তা ধারা। তিনি এলাকার উন্নয়নে ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রতিটি পাড়া মহল্লায়। ১৯৯৯ সালের ১১ ফেযয়ারি তিনি ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামীলিগের সম্পাদক থাকা অবস্হায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। আল্লাহ তার পরকালে জীবন শান্তির করে দিন। আমিন।

ফেঞ্চুগঞ্জ: জুলহান আহমদ
০১৭১০৮৯০৯৪৯

লেখক:
সাংবাদিক/ কলাম লেখক।

 

সিলেটপ্রেসবিডিডটকম/১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০/এফ কে 

  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

Send this to a friend